Home মুভিব্লগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সোনালী সময়ের সিনেমার গল্পঃ মালেক আফসারীর 'ক্ষতিপূরণ'

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সোনালী সময়ের সিনেমার গল্পঃ মালেক আফসারীর ‘ক্ষতিপূরণ’

এফডিসির চলচ্চিত্র মানেই যে ৭ টা ফাইট, ৫ টা গান, যাত্রার ঢং এ অ্যাকটিং, কানের পর্দার ফাটানো চিঃকার, আজগুবি গল্প নয় এই কথাটার আরেকটি প্রমাণ দিচ্ছি, শুনুন। আমাদের মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে গতানুগতিক ধরনের বাহিরে অসংখ্য দর্শকনন্দিত ছবি আছে যা অনেকেরই অজানা। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটি তারই একটি প্রমাণ যে ছবিটি সাধারন সিনেমা দর্শক থেকে সমালোচক সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল এবং যে ছবিটা জাতীয় চলচ্চিত্রের একাধিক শাখায় পুরস্কারও অর্জন করেছিলেন। সালমান খানের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিটি দেখে যারা কাঁদেন তাঁদের বলবো দয়া করে আমাদের স্বল্প বাজেটে নির্মিত ‘ ক্ষতিপূরণ’ ছবিটি একবার দেখুন।

- Advertisement -

১৯৮৯ সালের কোন এক বিকেলে সপরিবারে গিয়েছিলাম সিলেটের ‘মনিকা’ সিনেমা হলে যথারীতি মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন ছবি ‘ক্ষতিপূরণ’ দেখতে। ছবিটির নায়ক ছিলেন আলমগীর ও নায়িকা রোজিনা। কিশোর বেলার সেই সময় আলমগীর আমার সবচেয়ে প্রিয় একজন নায়ক যার ছবি মানেই অসাধারন কিছু। সেদিন ছবিটি দেখার আগ পর্যন্ত ভাবতে পারিনি কি চমক অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য ও সিনেমা হল ভর্তি সকল দর্শকদের জন্য। যাই হোক, টেলিসামাদ ও আবুল খায়েরের অলিম্পিক ব্যাটারি ও গোল্ডলিফের বিজ্ঞাপন দুটো শেষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন শেষে ছবি শুরু হলো।

ছবির গল্পটি সংক্ষেপে এমন – আলমগীর একজন চিত্রশিল্পী যার স্ত্রী ও সন্তান মারা গেছে। সন্তান মারা যাওয়ায় প্রিয়তমা স্ত্রী সন্তানের শোকে একদিন আত্মহত্যা করেন। স্ত্রী’র মৃত্যু নিয়ে আলমগীরকে পুলিশও সন্দেহ করে। বিশাল বাড়ীতে আলমগীর একাই থাকেন। শোকে দুখে আলমগির প্রতিরাতে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাড়ীতে ফেরে। একদিন মাতালবস্থায় বাড়ী ফেরার পথে রাস্তার ধারে একটি ৫/৬ বছরের বয়সী শিশুকন্যাকে কুড়িয়ে পায়। বাসায় নেয়ার পর আলমগীর জানতে পারে মেয়েটি বোবা। মেয়েটিকে নিজের মেয়ে ‘কবিতা’ নাম দিয়েই লালন পালন করতে শুরু করে কিন্তু এই মেয়েটিকে বাড়ী আনার পর থেকেই ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। কারা যেন মেয়েটিকে ছল বলে কৌশলে আলমগিরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায় মেয়েটিকে খুন করতে চায়। আলমগির নিজেও ভেবে পায়না কেন এই নিস্পাপ শিশুটির পেছনে এতো শত্রু। ঘটনাক্রমে একদিন মেয়েটির ছোট খালা রোজিনার সাথে আলমগিরের পরিচয় হয়। রোজিনা মেয়েটিকে গাড়ীতে একা বসে থাকতে দেখে মায়ায় পরে যায় এবং কবিতাকে নিয়ে শপিংমলে ঘুরে বেড়ায় যেভাবে রোজিনার সাথে আলমগিরের পরিচয়। রোজিনাও জানে না যে এই শিশুটি তাঁর মেঝো বোনের মেয়ে যাকে বিদেশ থেকে আসার পর রোজিনা ও তাঁর বড় বোন রোজী আফসারি খুঁজছে। শিশুটিকে নিতে ছদ্মবেশে দিলদার ও তাঁর স্ত্রী আলমগিরের বাড়ীতে হানা দেয় এবং নিজেদের শিশুটির মা বাবা দাবী করে। কিন্তু দিলদার যখন মেয়েটিকে বাবা বলে ডাকতে বলে তখনই আলমগিরের সন্দেহ হয়। অর্থাৎ খুনি চক্র দিলদারকে টাকার বিনিময়ে মেয়েটিকে অপহরণ করতে পাঠায়। একদিন খুনি চক্রের সাজানো নারী অপহরণ ঘটনায় সন্দেহে জেলে যায় আলমগির। মেয়েটির দায়িত্ব নেয় রোজিনা এবং আলমগির রোজিনাকে বলে যেন যে ভাবেই হোক কবিতার দিকে যেন খেয়াল রাখে। রোজিনা কবিতাকে নিজেদের বাড়ীতে নিয়ে আসার পর রোজী কবিতাকে চিনে ফেলে এবং রোজিনাকে জানায় এই সেই তাঁদের মেঝো বোন দিলারার মেয়ে। মেঝো বোনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় আগেই জিডি করে রেখেছিল রোজী। রোজী কবিতাকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা পুলিশকে জানায় এরপর বের হয়ে আসে অন্য রোমহর্ষক ঘটনা। কে বা কারা কবিতার মা ও বাবাকে মেরে নিজেদের বাড়ীর বাগানের পেছনে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল যাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সন্দেহ করে আলমগীরকে কিন্তু বোবা শিশুটির আচরণে বুঝিয়ে দেয় আলমগির খুনি নয় বরং আলমগিরের কাছে সে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। আলমগিরও সেদিন প্রথম জানতে পারে কুড়িয়ে পাওয়া বোবা শিশুটিকে কেন বারবার একটি চক্র ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল আলমগিরের কাছ থেকে।

- Advertisement -

আলমগির পুলিশের জেলে যাওয়ার পথে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। কামারের ঘরে হাতকড়া খুলতে এসে দেখা পেয়ে যায় কামাররুপী দিলদার’কে যে একদিন কবিতার বাবা সেজে আলমগিরের বাড়ী থেকে কবিতাকে অপহরণ করতে গিয়েছিল। আলমগির দিলদারের কাছ থেকে জানতে পারে যে এক দাঁড়িওলা লোক তাঁকে টাকার বিনিময়ে এই কাজ করতে বাধ্য করেছিল। অভাবে পরে দিলদার সেদিন রাজী হয়েছিল। দিলদারের কাছ থেকে ধারনা পেয়ে আলমগির একজন লোকের একটি ছবি আঁকে যাকে সে একদিন রাস্তায় দেখেছিল এবং যে লোকটিকে দেখামাত্রই শিশু কবিতা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। রাতের আঁধারে রোজিনার সাথে দেখা করতে এসে সব খুলে বলে কেন সে পালিয়েছে এবং সাদা একটি কাগজে একজন দাঁড়িওয়ালা লোকের ছবি এঁকে স্ক্রেচটি রোজিনার হাতে তুলে দিয়ে বলে ‘তুমি কবিতাকে এই ছবিটা দেখিয়ে জানার চেষ্টা করবে কবিতা এই লোকটিকে চিনে কিনা?’ আলমগিরের কথামতো রোজিনা হাতে আঁকা ছবিটি কবিতাকে দেখাতেই কবিতা ভয় পেয়ে যায় যাতে বুঝতে বাকী নেই কবিতা আলমগিরের হাতে আঁকা ছবির মানুষটিকে চিনে যাকে একদিন রাস্তায় দেখে আলমগিরের সাথে থাকা শিশু কবিতা আঁতকে উঠেছিল। …এরপর শুরু হয় কবিতার মা বাবাকে খুন করার রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিদের ধরার আলমগিরের অভিযান যে নিস্পাপ শিশুটির মা বাবা হারানোর ‘ক্ষতিপূরণ’ বুঝিয়ে দিতে চায় এবং অবশেষে খুনি ড্যানি সিডাক ও আহমেদ শরীফের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ছবিটি শেষ হয় এবং চাঞ্চল্যকর একটি খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিদের জীবন বাজী রেখে ধরিয়ে দেয়ার পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া ফেরারি আসামী আলমগিরকে পুলিশ বিভাগ ক্ষমা করে দেয়। শিশু কবিতা আলমগির ও রোজিনার মাঝে তাঁর হারানো মা বাবাকে খুঁজে পায়। এভাবেই সেদিন রুদ্ধশ্বাস এক গল্পের সহজ সরল কিন্তু অসাধারন নির্মাণের ছবি ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটি দেখে তৃপ্তি নিয়ে দর্শক সিনেমা হল থেকে বের হয়েছিল। যে ছবিটির টাইটেলের শুরুতে পরিচালক মালেক আফসারি ‘একটি বিদেশী ছবির ছায়া অবলম্বনে’ লিখে না দিলে কেউ সহজে বুঝতেই পারতো না ছবিটি বাংলাদেশের গল্প নয় কারণ বিদেশী ছবির গল্প হলেও পুরো ছবিটি ছিল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবি। সেদিন কিশোর বয়সে ছবিটি দেখলেও আজো ছবিটির স্মৃতি বারবার চোখে ভাসে কারণ বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমার ব্যতিক্রমধর্মী ছবিটি দেখে।

মালেক আফসারি হলেন আমাদের ‘মাস্টার মেকার’ এ জে মিন্টুর অন্যতম একজন মেধাবী ছাত্র। গুরু মিন্টুর মতো মালেক আফসারি বাংলা বাণিজ্যিক ছবির গল্প নিয়ে বেশ কিছু এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন। ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটি হলো মালেক আফসারির সেই এক্সপেরিমেন্টের সেরা একটি ছবি। সেদিনের স্বল্প বাজেটে ও সীমিত কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটির কাছে আজকের কয়েক কোটি টাকার ছবিও পাত্তা পাবে না এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। প্রেম, বিরহ, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা সামাজিক অ্যাকশন গল্পের বিপরীতে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী গল্পের ছবিটি শিক্ষিত অশিক্ষিত কোন শ্রেণীর মাথার উপর দিয়ে যায়নি বরং প্রতিটি শ্রেণীর দর্শকরা পুরো ছবিটি দারুন উপভোগ করেছিলেন। টাইটেল শেষ হতে না হতেই ব্যবসায়ী শওকত আকবর’কে তাঁর ব্যবসায়ী অংশিদার আহমেদ শরীফ খুন করে যা রাস্তা দিয়ে বাসায় যেতে জনি- দিলারা দম্পতি ও ৫/৬ বছর বয়সী তাঁদের শিশুকন্যা দেখে ফেলে। যার ফলে আহমেদ শরীফ তাঁর ভাড়াটে খুনি ড্যানি সিডাক’কে পাঠায় খুনের সাক্ষী হিসেবে ঐ অপরিচিত দম্পতিকেও খুন করতে। জনি ও দিলারাকে খুন করলেও শিশু কন্যাটি দৌড় দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় …এরপর টাইটেলে দেখানো হয় রোজী ফিল্মস এর নাম ও পরিচালক হিসেবে মালেক আফসারির নাম তার মানে দর্শক নড়েচড়ে বসার আগেই একটি খুন দেখতে পেলো এবং মূল গল্পটি মাত্র শুরু হলো। টাইটেল শেষেই আলমগীরের আগমন আর এভাবেই ছবিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দৃশ্য ধরে ধরে এগিয়েছে যা মালেক আফসারির পরিচালনার নিপুণতা ও দক্ষতা প্রমান করে। অবাক করার বিষয় হলো সেদিন বড় পর্দায় আলমগীরকে বয়সের তুলনায় অনেক অনেক বেশী তরুণ লেগেছিল। আলমগিরও পুরো ছবিতে তারুণ্যদীপ্ত এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক সমালোচক সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সেই বছরে আলমগির অভিনীত রাঙ্গাভাবী, সত্য মিথ্যা, ব্যথার দান , বিসর্জন এর মতো দারুন দারুন একাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছিল যার সবগুলোই দর্শকনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিতে আলমগীর অন্য সব ছবি থেকে আলাদা ছিলেন এবং নিজের অভিনয় স্টাইলটা পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন যার পুরস্কার তিনি পেয়েছিলেন বছর শেষে জাতীয় পুরস্কারের পর্বে। পেশাদার খুনি চরিত্রে সংলাপবিহীন (খুবই স্বল্প সংলাপ ছিল) ড্যানী সিডাক দারুন অভিনয় করেছিলেন। খলনায়ক ড্যানীর ক্যারিয়ারে ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম একটি চলচ্চিত্র হয়ে থাকবে।

বোবা শিশু মেয়েটির চরিত্রে অভিনয় করেছিল সম্ভবত যার নাম ছিল বিন্তি বা বিন্তু। বোবা চরিত্রে বিন্তি অসাধারন অভিনয় করেছিল যাকে ১৮০০ শিশু শিল্পী থেকে বাছাই করে ক্ষতিপূরণ ছবিটির জন্য নির্বাচন করেছিলেন প্রযোজক রোজি আফসারি ও পরিচালক মালেক আফসারি। যার সার্থকতা বিন্তি দেখিয়েছিল। আলমগির ও বোবা শিশু মেয়েটির চরিত্রে বিন্তি অসাধারন অভিনয় করেছিল। আমি ভেবেছিলাম শিশু শিল্পীটি সেইবছর জাতীয় পুরস্কার পেয়ে যাবে কিন্তু এ জে মিন্টুর ‘সত্য মিথ্যা’ ছবির জন্য মাস্টার জনসন সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করে। ছবিটিতে রোমান্টিক দৃশ্য নেই বললেই চলে কিন্তু তারপরেও আছে প্রেম, জীবনের দুঃখবোধ, ভালোলাগা ভালোবাসার গল্প যা অন্য সব ছবি থেকে আলাদা করে রেখেছিল ছবিটিকে। বিনোদনের কোন উপকরন বাদ ছিল না ছবিতে। গান আছে, নাচ আছে, ফাইট আছে আর আছে উত্তেজনায় ঠাসা পরিচ্ছন্ন গল্প যা এক কথায় অসাধারন। হলিউডের একটি ছবির গল্প থেকে এই ছবিটি নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রযোজক বদল সহ নানা সমস্যায় ছবিটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে ১৯৮৮ সালে হিন্দি ‘হত্যা’ নামের গোবিন্দের একটি ছবি মুক্তি পায় যা ছিল ঐ হলিউডের ছবিটির অনুকরণে। হিন্দি ‘হত্যা’ ছবিটি মুক্তি আগে পাওয়ায় অনেকে ভেবে থাকেন মালেক আফসারি হয়তো হিন্দি ছবিটিকে নকল করেছেন। আসলে তা নয়, গোবিন্দের ‘হত্যা’ ও মালেক আফসারির ‘ক্ষতিপূরণ’ হলিউডের একই ছবি থেকে নেয়া। তবে মালেক আফসারি গল্পটাকে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করেছিলেন। ক্ষতিপূরণ ছবিটির সহযোগী প্রযোজক ছিলেন নায়ক আলমগীর। অর্থাৎ রোজি আফসারি ও আলমগীর যৌথ ভাবে নির্মাণ করেন ‘ক্ষতিপূরণ ‘ ছবিটি যার পরিবেশনায় ছিল ‘রোজি ফিল্মস’।

বিদেশী ছবির ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ক্ষতিপূরণ ছবিটি কি পুরস্কার পায়নি? পেয়েছে যা হলো ১৯৮৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আলমগির শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, মফিজুল হক শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক ও অ্যান্ড্রো কিশোর শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার লাভ করেছিল। ছবির গানগুলো লিখেছিলেন আলমগিরের সাবেক স্ত্রী ও গীতিকার খোশনূর আলমগীর ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ছিলেন আবু তাহের। খোশনূর আলমগিরের লিখা ও আবু তাহেরের সুর করা ‘এই দুটি ছোট্ট হাতে’ গানটির জন্য আন্দ্রু কিশোর পুরস্কার পেয়েছিলেন। পুরো ছবিতে আবু তাহের দারুন কাজ করেছিলেন বিশেষ করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই রকম হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আবহ সঙ্গীত করেছিলেন যা ছবিটির সাথে মানানসই। আবু তাহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সুরকেই আবহ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন যা শুনতে একবারও বিরক্ত লাগেনি কিংবা কানেও অসহ্য লাগেনি। একটি শিশুর বোবা আর্তনাদের সুর আবহ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করে ছবির গল্প ও দৃশ্যকে আরও বেশী হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন। সেইবছর মাস্টার মেকার এ জে মিন্টু’র ‘সত্য মিথ্যা’ ছবিটি না থাকলে সম্ভবত ক্ষতিপূরণ ছবিটি আরও কয়েকটি পুরস্কার লাভ করতো। বাংলা মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে মালেক আফসারির ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটি চিরস্মরণীয় ছবির তালিকায় থাকবে চিরদিন। অভিনেত্রী ও প্রযোজক রোজী আফসারি ও পরিচালক মালেক আফসারিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এমন একটি ছবি সেদিন আমাদের উপহার দেয়ার জন্য। সবশেষে সবাইকে আবারো অনুরোধ করবো যারা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবিকে বস্তাপচা বলে যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করেন তাঁরা একটিবার হলেও আমাদের পুরনো দিনের বাণিজ্যিক ছবিগুলো দেখবেন, জানবেন। হতে পারি গরীব ও অন্যদেশের ছবির কারিগরির দিক থেকে অনুন্নত কিন্তু ছবিগুলো তো আমাদেরই, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের। সেইসব ছবিগুলোকে আমরা যদি ভালো না বাসি তাহলে কে বাসবে বলুন?

সবশেষে শুধু এইটুকুই আবার বলবো যে এমন ছবি গত ১ যুগেও কোন নতুন ধারার খুব মেধাবী পরিচালকদের কাছ থেকেও পাইনি ,হয়তো পাবো না কোনদিন। কারণ এখন ছবি নির্মাণ হয় দেশ বিদেশে পুরস্কার পাওয়ার জন্য কিন্তু সিনেমা হলের সব শ্রেণীর দর্শকদের জন্যআন্তরিকতা নিয়ে ছবি নির্মাণ কেউ করে না। ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবিটির বিজ্ঞাপনের অংশটি সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য ফাহাদ বিন শামস ভাইকে এবং পোস্টারটি সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য প্রজন্ম শানু ভাইকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

ফজলে এলাহী
বাংলা সিনেমার স্বরূপ সন্ধানে কাজ করে যাওয়া একজন অক্লান্ত যোদ্ধা ফজলে এলাহী। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত তুলে ধরার জন্য নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন তিনি। ফজলে এলাহীকে আমাদের একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে পেয়ে ফিল্মীমাইক শ্লাঘা বোধ করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার এই কাজকে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন

সর্বশেষ মন্তব্য

মুক্তির প্রতীক্ষিত

  • বিদ্রোহী (Bidrohi)

সর্বশেষ খবরাখবর

আমির খানের সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষিক্ত হচ্ছেন তেলুগু তারকা নাগা চৈতন্য

0
বলিউডের অন্যতম প্রত্যাশিত সিনেমা আমির খান অভিনীত 'লাল সিং চাড্ডা'। টম হ্যাঙ্কস অভিনীত হলিউডের কালজয়ী সিনেমা 'ফরেষ্ট গাম্প' সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক হতে যাচ্ছে 'লাল...

‘বুবুজান’ মাহিয়া মাহিঃ আর শান্তর বিপরীতে থাকছেন নিশাত সালওয়া

0
গত বছর ডিসেম্বরে প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়া ঘোষনা করেছিলো নারী নির্যাতন নিয়ে সিনেমা ‘বুবুজান’ নির্মানের। ঘোষনার সাথে সিনেমাটির ফার্ষ্ট লুক পোষ্টারও প্রকাশ করেছিলো শাপলা...

কবে শুরু হচ্ছে শাহরুখ খান এবং রাজকুমার হিরানির সিনেমা? জেনে নিন বিস্তারিত

0
'জিরো' সিনেমার পর এখন পর্যন্ত কোন সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেননি বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। তবে সিদ্ধার্ত আনন্দ পরিচালিত 'পাঠান' সিনেমার মাধ্যমে চলতি বছরে বড়...

[ভিডিও] পৃথ্বীরাজ সুকুমারানের নতুন সিনেমা ‘জানা গানা মানা’ এর প্রমো প্রকাশ

0
ভারতের স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ করা হলো পৃথ্বীরাজ সুকুমারান এবং সুরোজ ভেঞ্জারামুদু অভিনীত একশন সিনেমা 'জানা গানা মানা' এর প্রমো। প্রোমোতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি দেখা...

শুটিং শেষে শুরু হলো ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমার ডাবিং: শীঘ্রই মুক্তির ঘোষনা

0
চলতি বছরের মুক্তি প্রতীক্ষিত অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন'। দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত তারকাবহুল সিনেমাটির চিত্রায়ন ইতিমধ্যে শেষ করেছেন এর নির্মাতা। শুটিং শেষে এখন চলছে...

আরো পড়ুন