তেলেগু সুপারস্টারদের বিরুদ্ধে বক্স অফিস সংগ্রহে কারসাজির অভিযোগ

তেলেগু সুপারস্টারদের

তেলেগু সুপারস্টারদের

প্যান ইন্ডিয়া মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিনি সিনেমাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে করোনা পরবর্তি সময়ে ভারতীয় বক্স অফিসে দক্ষিনি সিনেমাগুলো দুর্দান্ত ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছে। প্যান ইন্ডিয়া দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া তেলেগু সুপারস্টারদের মধ্যে মহেশ বাবু, প্রভাস, জুনিয়র এনটিআর, আল্লু অর্জুন এবং রাম চরন উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে সম্প্রতি এই সুপারস্টারদের বিরুদ্ধে বক্স অফিস সংগ্রহের কারসাজি করে নিজেদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর অভিযোগ এনেছেন তেলুগু ফিল্ম চেম্বার অফ কমার্স সেক্রেটারি।

করোনা পরবর্তি সময়ে ‘পুষ্পা’, ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ২’ এবং ‘আরআরআর’ সিনেমাগুলো ভারতীয় বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছে। এর বিপরীতে উল্টো চিত্রও আছে। এ সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আচার্য’, ‘রাধে শ্যাম’ এবং ‘সরকারু ভারি পাতা’ এর মত বিগ বাজেটের তেলুগু সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই সিনেমাগুলোতে অভিনয় করা তেলেগু সুপারস্টারদের পারিশ্রমিক ছিলো আকাশচুম্বী। তবে সিনেমাগুলোর ব্যর্থতা তারকাদের পারিশ্রমিকে কোন প্রভাব ফেলেনি এখন পর্যন্ত।

মহেশ বাবু, প্রভাস এবং আল্লু অর্জুন তাদের সিনেমার জন্য এখনো বড় অংকের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ধারাবাহিক সিনেমার ব্যর্থতা এবং সুপারস্টারদের পারিশ্রমিক নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তেলুগু ফিল্ম চেম্বার অফ কমার্স সেক্রেটারি মুতয়ালা রমেশ। বক্স অফিস আয়ে কারসাজি এবং উচ্চ পারিশ্রমিকের জন্য তেলেগু সুপারস্টারদের অভিযুক্ত করেছেন মুতয়ালা রমেশ। যদিও তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু স্পষ্টত তার অভিযোগের আংগুল মহেশ বাবু, প্রভাস, জুনিয়র এনটিআর, আল্লু অর্জুন এবং রাম চরনের মত বড় তারকাদের দিকে।

সিনেমার বক্স অফিস আয়ের কারসাজি এবং নিজেদের উচ্চ পারিশ্রমিকে শুধু মাত্র বড় তারকারাই খুশি বলে জানিয়েছেন মুতয়ালা রমেশ। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রির বাকী সব অংশীদাররা এর জন্য ভুক্তভোগী উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘কারসাজি করে বাড়িয়ে বলা বক্স অফিস আয় এবং উচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে শুধুমাত্র নায়করাই খুশি। এছাড়া বাকী সব অংশীদাররা ভুক্তভোগী।‘ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরা একটি ভিডিওতে তাকে এই অভিযোগ তুলতে দেখা গেছে।

এছাড়া ওটিটি প্লাটফর্মের কারনে প্রেক্ষাগৃহ মালিক এবং ডিস্ট্রিবিউটররা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলেও উল্লেখ করেছেন মুতয়ালা রমেশ। এর আগে একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন প্রদর্শক সেক্টরের চেয়ারম্যান টি.এস. রাম প্রসাদ। ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তির আগে প্রেক্ষাগৃহে আরো বেশীদিন সিনেমাগুলো রাখার জন্য নির্মাতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। করোনা পরবর্তি সময়ে ভারতে সিনেমাগুলো মুক্তির ৪/৮ সপ্তাহ পর ওটিটি’তে মুক্তি পেতে দেখা গেছে।

এদিকে কিছুদিন আগে চলতি বছরের ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলো থেকে  সিনেমার মাধ্যমে আয়ের দিক থেকে কোন সুবিধা পাননি বলে জানিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা। এই বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো মধ্যে এসএস রাজামৌলী পরিচালিত ‘আরআরআর’ সিনেমাটিও রয়েছে। তবে এই সিনেমাগুলোর নির্মাতারা ভালো অংকের মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।

যদিও ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কোন কারন উল্লেখ করেননি, অন্ধ্র প্রদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা জানিয়েছেন তারা খুব বাজে সময় পার করছেন। শুরু ‘আরআরআর’ নয়, বিগ বাজেটের অন্য সিনেমাগুলোর নির্মাতারাও বক্স অফিস আয় অনেক বাড়িয়ে বলেছেন, যেখানে সিনেমাগুলো এতটা ভালো ব্যবসা করতে সক্ষম হয়নি। আর শুধু প্রয়োজকরা নয়, প্রদর্শকরাও সিনেমাগুলোর প্রধান তারকাদের খুশি রাখতে বক্স অফিস আয় অনেক বাড়িয়ে বলেছেন।

আরো পড়ুনঃ
প্যান ইন্ডিয়া বক্স অফিস কাঁপাতে আসছে কিচ্ছা সুদীপের ‘বিক্রান্ত রোনা’
জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী সুপারস্টার সুরিয়া অভিনীত পাঁচটি ব্যতিক্রমী সিনেমা
চল্লিশ বছরের বেশী সময় পর এক সাথে রজনীকান্ত এবং কমল হাসান!

By নিউজ ডেস্ক

এ সম্পর্কিত