চুক্তিপত্র প্রকাশ্যেঃ ১০০ কোটি নয় ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার বাজেট ৫ কোটির কম!

‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার

‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার

গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছিলো দেশীয় সিনেমার আলোচিত অভিনেতা প্রযোজক অনন্ত জলিলের সিনেমা ‘দিন দ্য ডে’। বাংলাদেশ-ইরান যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটি পরিচলনা পাশাপাশি সহ-প্রযোজক হিসেবে ছিলেন ইরানি নির্মাতা মোর্তজা অতাশ জমজম। সিনেমাটি মুক্তি আগে থেকেই অনন্ত জলিল বলে আসছিলেন ‘দিন দ্য ডে’ ১২০ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার বাজেট নিয়ে বড় ধরনের মিথ্যাচার করেছেন এই অভিনেতা।

কিছুদিন আগে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে অনন্ত জলিলের বিরুদ্ধে মামলার কথা জানিয়েছিলেন ‘দিনঃ দ্য ডে’ সিনেমার পরিচালক জমজম। ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ পোস্টে অনন্ত জলিলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুর্তজা অতাশ জমজম। সেই পোস্টে অনন্ত জলিলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তাঁর পোস্টে জানান, ‘দিনঃ দ্য ডে’ সিনেমা নিয়ে শুরুতে যে চুক্তি ছিল, তার কিছুই রক্ষা করেননি অনন্ত জলিল। সিনেমায় মুর্তজার অর্ধেক প্রোডাকশন জলিল নষ্ট করে নিজের মতো করে সিনেমা বানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এবার তিনি নিজের ইনস্ট্রগ্রামে ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার জন্য তার সঙ্গে অনন্ত জলিলের করা চুক্তিপত্র প্রকাশ করেছেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ি দেখা যাচ্ছে, ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার সর্বমোট বাজেট ধরা হয়েছে ৫ লাখ মার্কিন ডলার। যা বর্তমান বাজারমূল্যে বাংলাদেশি টাকায় ৫ কোটি টাকার কম। ২০১৮ সালে সিনেমাটি নিয়ে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল। সে সময়ে ডলারের দাম ছিল ৮২ টাকা। সে হিসেবে ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার মূল বাজেট চার কোটি টাকার একটু বেশি।

অনন্ত জলিলের সাথে চুক্তি সম্পর্কে মোর্তজা বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী কথা ছিল অনন্ত জলিল পুরো টাকাটাই বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি ছবির লভ্যাংশের ৮৫ শতাংশ নেবেন এবং প্রযোজক হিসেবে তিনি ১৫ শতাংশ পাবেন। যেখানে অনন্ত আমাদের ইরানি টিমের পুরো পেমেন্ট পরিশোধ করেননি, সেখানে ছবির বাজেট কিভাবে ১০ মিলিয়ন ডলার হয়? যেখানে কি-না দশ মিলিয়ন ডলারের দাবী, মূল বাজেটের প্রায় ত্রিশ গুন বেশি দাবী!’

‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার

অনন্ত জলিলের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, জনাব অনন্ত জলিলের অর্থায়নে সিনেমাটি তৈরি হবে (কারণ এই ধারার চলচ্চিত্র ইরানের জনগণের পছন্দের না)। সেই সাথে চুক্তিপত্রে স্পষ্টত তার নামটি এই চলচ্চিত্রের বিনিয়োগকারী ও অভিনেতা হিসেবে, এবং আমার নামটি প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।‘ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজক মূলত ছবিটি নির্মাণে সহায়তা করেন, তিনি আর্থিক কোনো বিনিয়োগ করেন না।

এছাড়া সিনেমাটি নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অনন্ত জলিলের সাথে নিজের মতপার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, শ্যুটিং শুরুর দিনগুলোতে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু চুক্তির কারণে আমার ফিরে আসার কোনো পথ ছিল না। আমি চাইনি আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হোক।‘ অনন্তের খামখেয়ালির কারণে সিনেমাটির নির্মান ব্যয় বেড়ে যায়। তাছাড়া কারো অর্থ ঠিকঠাক মতো পরিশোধ না করার প্রতিবাদে কিছুদিন দৃশ্যধারন বন্ধ রাখেন বলেও জানান মোর্তজা।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ের সিনেমাটির চিত্রনাট্য পরিবর্তন এবং ব্যবসায়িক ব্যস্থতার অজুহাতে অনন্ত শ্যুটিংয়ে প্রায়ই দেরি করতেন বলে দাবি করেন মোর্তজা। ক্রমাগত চিত্রনাট্য পরিবর্তন থেকে তাদের মতপার্থক্যের শুরু হয় জানান তিনি। গল্পে আইএস জঙ্গিবাদ ইস্যু থেকে মাদক ও মাফিয়া ইস্যুতে পরিবর্তন, শ্যুটিংয়ের স্থান সিরিয়া ও লেবানন থেকে পরিবর্তন করে আফগানিস্তান ও তুরস্কে নিয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয় বলে উল্লেখ করেছেন এই নির্মাতা। এছাড়া মোর্তজাকে ছাড়া অনন্ত তুরস্কে শ্যুটিং করেছেন। সেখানে একটি দৃশ্যে নারীদের অশালীন নৃত্য শ্যুট করা হয়েছে, যা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন মোর্তাজা।

অনন্ত জলিল দুই দফায় ইরানি টিমের পাওনা দুই লাখ ডলারের মধ্যে ২৪ হাজার ডলার পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে। কিন্তু বাকি অর্থ পরিশোধে বার বার তাগাদা দিলেও অনন্ত করোনা ও ব্যবসায় লোকসানের অজুহাত দেন বলে জানান মোর্তজা। শুধু তাই নয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় সিনেমাটির দুর্বল ট্রেলার দেখে বিব্রত হয়েছিলেন মোর্তাজা। তখন অনন্ত তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সেগুলো পরিবর্তন করা হবে।

এর আগে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে মোর্তাজার মামলার ঘোষণা প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেছিলেন, ‘ওই চুক্তিই হচ্ছে বাংলাদেশে শুটিংয়ের টাকা আমি দেব। আমি বাংলাদেশে শুটিংয়ের অংশের টাকা দিয়েছি। আমি চার বছর ধরে এ কথাই বলছি যে বাংলাদেশের শুটিংয়ের খরচ আমি বহন করব, বাইরের শুটিংয়ের খরচ ওরা বহন করবে। বাংলাদেশের শুটিংয়ের টাকা তো ও (মুর্তজা) দেয়নি, আমিই দিয়েছি।‘ এবার সিনেমার বাজেট সংক্রান্ত মিথ্যাচার নিয়ে অনন্ত কি বলেন সেটাই দেখার বিষয়।

প্রসঙ্গত, বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম। বাংলাদেশ ছাড়াও ইরান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। ইরানের মুর্তজা অতাশ জমজম এবং বাংলাদেশের প্রযোজক অনন্ত জলিলের এজে ব্যানারে নির্মাণ হয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাটিতে অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বর্ষা। এছাড়াও সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন ইরান ও লেবাননের অভিনেতারা।

আরো পড়ুনঃ
‘দিনঃ দ্য ডে’ সিনেমার পরিচালকের মামলার হুমকির জবাব যা বললেন অনন্ত
‘দ্য লাস্ট হোপ’ নামে নতুন সিনেমার ঘোষণা দিলেন অনন্ত জলিল
বাংলা সিনেমায় সুদিনের ইঙ্গিতঃ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কতটুকু প্রস্তুত ঢালিউড

By নিউজ ডেস্ক

এ সম্পর্কিত