ধর্ষণকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছিলো হলিউডের যে ১০টি আলোচিত সিনেমা!

ধর্ষণকে উপজীব্য করে নির্মিত

বলা হয়, চলচ্চিত্র হচ্ছে সমাজের আয়না। অর্থাৎ সমাজে যা কিছু ঘটে, তারই প্রতিচ্ছবি দেখানো হয় সিনেমায়। তেমনি ধর্ষণের মত ঘটনা দেশে বিদেশে ঘটছে অহরহ, যা নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। ধর্ষণকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য সিনেমা। এই প্রবন্ধে তেমনই ১০টি হলিউড সিনেমার বর্ণনা দেয়া হল, যেসব সিনেমার বিষয়বস্তু ও পটভূমি ধর্ষণ। আসুন জেনে নিই সেসব চলচ্চিত্র সম্পর্কে।

১০। দ্য জেনারেল’স ডটার
১৯৯৯ সালের ১৫ জুন মুক্তি পায় ‘দ্য জেনারেল’স ডটার’ ছবিটি। নেলসন ডিমিলের কাহিনিতে ছবিটি পরিচালনা করেন সিমোন ওয়েস্ট। জর্জিয়া মিলিটারি ক্যাম্পে একজন নারী আর্মি অফিসারের মৃতদেহ পাওয়া যায়। দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা এই মামলায় কাজে নিযুক্ত হন। তাদের সন্দেহ, এটি একটি নিখুঁত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু আসলে সেই নারী কর্মকর্তা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এমন গল্পের সিনেমা ‘দ্য জেনারেলস ডটার’।

৯। ডেথ উইশ ২
১৯৮২ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। এটি পরিচালনা করেন মিশেল উইনার। ‘ডেথ উইশ ২’ ছবির বিষয়বস্তু ধর্ষণ। ছবিটিতে দেখানো হয়েছে, একজন লোক তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সুরক্ষিত জীবনযাপনের জন্য নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে আসেন। মেয়েটি অনেক আগে একবার ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, যার কারণে মেয়েটি মানসিক বিকারগ্রস্ত। কিন্তু স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার বদলে মেয়েটি তার বাড়ির কাজের মেয়ের সঙ্গে আবারও গণধর্ষণের শিকার হয়। এতে কাজের মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটির বাবা এর সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলস ছাড়তে প্রস্তুত হন না। পরবর্তীতে দেখা যায়, সেসমস্ত অপরাধীদের শাস্তি দেন মেয়েটির বাবা।

৮। ব্ল্যাক স্নেক মোয়ান
২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় এই ছবিটি। ছবিটির পরিচালক ক্রেইগ ব্রিউয়ার। ‘ব্ল্যাক স্নেক মোয়ান’ ছবিতে মেয়েদের শারীরিক নিগ্রহের স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যৌন নির্যাতনের কারণে একজন মেয়ের মধ্যে যে সমস্ত মানসিক সমস্যা তৈরি হয়, তা দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়।

৭। বয়েজ ডোন্ট ক্রাই
১৯৯৯ সালের ২২ অক্টোবর মুক্তি পায় ছবিটি। এর পরিচালক কিম্বারলি পিয়ারস। ছবিটি সব মহলে বেশ প্রশংসিত হয়, যে কারণে অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান হিলারি সোয়াঙ্ক। ছবিটি একটি বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। ছবির কাহিনী এমন- একটি ছেলে তার প্রেমিকার ভাইয়ের হুমকির কারণে নিজের শহর ছেড়ে চলে যায়। প্রেমিকার ভাইয়ের মাধ্যমে সে জানতে পারে, সে আসলে পুরুষ নয়, একজন নারী। কিন্তু তা স্বত্বেও ছেলেটি আরেক গায়িকার প্রেমে পড়ে এবং তার সঙ্গে ভবিষ্যত জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ছেলেটির কয়েকজন বন্ধু তার শারীরিক দুর্বলতার কথাটি সবাইকে জানিয়ে দেয়। যার ফলে বদলে যায় সমস্ত চিত্র।

৬। স্ট্র ডগস
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় ‘স্ট্র ডগস’ ছবিটি। গর্ডন উইলিয়ামসের চিত্রনাট্যে ছবিটি পরিচালনা করেন স্যাম পেকিংপা। এই সিনেমার মূল পটভূমি ধর্ষণ। আমেরিকান একজন পুরুষ ইংল্যান্ডের এমি নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। কিন্তু শহরের অস্থির পরিবেশ থেকে বাঁচার জন্য তারা ছোট শহরে বসবাস শুরু করেন, যেখানে এমি বড় হয়েছেন। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় দুজন এমিকে ধর্ষণ করে। এই যৌন নিগ্রহতা এমির স্বামীকে প্রতিবাদী ও হিংস্র মানুষে পরিণত করে। এমন কাহিনী নিয়েই এগিয়েছে ছবিটি।

৫। দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু
২০১১ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ডেভিড ফিঞ্চার ছবিটি পরিচালনা করেন। ধর্ষণের পটভূমিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগল ট্যাটু’। এই ছবিতে অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ, রুনি মারা সহ হলিউডের স্বনামধন্য তারকারা। ছবিটি অস্কারে সেরা এডিটিংয়ের জন্য সম্মানিত হয়।

৪। আই স্পিট অন ইয়োর গ্রেভ
মির জারচির পরিচালনায় এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। একজন লেখিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছবির কাহিনি। তিনি একটি উপন্যাস লেখার জন্য একটি রুম ভাড়া করেন। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার জন্যই নতুন জায়গায় আসা। কিন্তু এলাকার বখাটেদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। কিন্তু প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ফিরে আসেন। একের পর এক বখাটেকে হত্যা করার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেন সেই লেখিকা।

৩। লাস্ট হাউজ অন দ্য লেফট
ওয়েস ক্র্যাভেনের চিত্রনাট্যে ছবিটি পরিচালনা করেন ডেনিস ইলিয়াডিস। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ছুটি কাটাতে মেরি ও তার বন্ধু একটি লেকহাউজে যায়। কিন্তু সেখানে তারা অপহরণের শিকার হয়। অপরাধীরা তাদেরকে সেখানে ধর্ষণ করার পর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে মেরি নিজের বাড়ি পৌঁছুতে সক্ষম হয়। অভিভাবকেরা মেরির অত্যাচারীদের সাথে প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এমন কাহিনির সিনেমা ‘লাস্ট হাউজ অন দ্য লেফট’।

২। দ্য ক্রো
জেমস ও’বারের চিত্রনাট্যে ‘দ্য ক্রো’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ছবিটি পরিচালনা করেন অ্যালেক্স প্রায়াস। এই ছবিতেও দেখানো হয়েছে যৌন নিগ্রহতা। একজন মিউজিসিয়ানের বিয়ের আগের রাতে সে ও তার হবু স্ত্রী এলাকার সন্ত্রাসীদের নিগ্রহের শিকার হয়। মেয়েটিকে তারা ধর্ষণ করে, তারপর দুজনকেই হত্যা করা হয়। তাদের মৃত্যুর এক বছর পর কবর থেকে উঠে আসে সেই মিউজিসিয়ান। কিন্তু মানুষের বেশে নয়, একটি অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী কাকের বেশে পৃথিবীতে আসে সে। যারা তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদেরকে হত্যা করাই ছিল তার ফিরে আসার উদ্দেশ্য।

১। অ্যা ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ
স্ট্যানলি কুবরিকের নির্দেশনায় ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। ছবিটিতে একজন মানসিক রোগীর বিকৃত অপরাধের চিত্র দেখানো হয়েছে। একটি উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল ছবিটি। ৪৪তম অস্কারে ৪টি সম্মাননা দেয়া হয় এই সিনেমাটিকে। এছাড়াও গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা ও ডিরেক্টরস গিল্ড অব আমেরিকার মত বিখ্যাত সব পুরস্কার জিতে নেয় এই ছবিটি।

প্রিয় পাঠক উপরে উল্লেখিত সিনেমাগুলোর মধ্যে কোন সিনেমাটি আপনার কাছে বেশী ভালো লেগেছে তা আমাদের জানিয়ে দিন মন্তব্যে। এই সিনেমাগুলো ছাড়াও ধর্ষণকে উপজীব্য করে নির্মিত আর কোন সিনেমা এই তালিকায় থাকা উচিৎ বলে আপনি মনে করছেন তাও জানিয়ে দিতে পারেন মন্তব্যে।

সূত্র- মুভি পাইলট

আরো পড়ুনঃ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে নির্মিত হলিউডের সেরা ৫টি সিনেমা
শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবে অভিশপ্ত ছিলো যে ৫টি ভৌতিক সিনেমা!
সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যানঃ নো ওয়ে হোম’

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ