থালাপাতি বিজয় সম্পর্কে মজার কিছু ঘটনাঃ দেখে নিন বিস্তারিত

থালাপাতি বিজয় সম্পর্কে

রজনীকান্তের পর তামিল সিনেমায় সুপারস্টার তকমা পাওয়া তারকার সংখ্যা খুব বেশী নেই। রজনীকান্তের ভক্ত এবং বক্স অফিসে তার সফলতার সাথে তুলনা করার মত তারকা এই মুহুর্তে একজনই আছেন, তিনি থালাপাতি বিজয়। ভারত এবং ভারতের বাইরে তার সিনেমাকে ঘীরে যে উম্মাদনা তাতে এটা বলাই যায় যে, বর্তমান সময়ে তামিল সিনেমার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের নাম থালাপাতি বিজয়। ১৯৯২ সাল থেকে পর্দায় দর্শক মাতানো থালাপাতি বিজয় সম্পর্কে আছে বেশ কিছু মজার তথ্য যা হয়তো অনেকেরই অজানা। থালাপাতি বিজয় সম্পর্কে এরকম মজার কিছু ঘটনা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

- Advertisement -

১। শিশু শিল্পী বিজয়
সিনেমার জগতে থালাপাতি বিজয়ের পথ চলা তার বাবার হাত ধরে। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নালাইয়া থিরপু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান তারকা হিসেবে তার অভিনয় শুরু হলেও বড় পর্দায় বিজয়কে প্রথম দেখা গেছে একজন শিশু শিল্পী হিসেবে। ১৯৮৪ সালে শিশু শিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয়ের যাত্রা শুরু করা বিজয় ১৯৮৮ পর্যন্ত মোট ছয়টি সিনেমায় শিশু শিল্পী হিসেবে দেখা গেছে বিজয়কে। আর এই ছয়টি সিনেমাই পরিচালনা করেছেন থালাপাতি বিজয়ের বাবা নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখর।

২। একজন একনিষ্ট পরোপকারী
সিনেমার পাশাপাশি থালাপাতি বিজয়ের গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম প্রধান কারন তার পরোপকারী কর্মকান্ড। সাধারন মানুষের উপর প্রভাব ফেলে এরকম বিষয় নিয়ে এই তারকাকে সবসময়ই সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে নিজের ইমেজকে করেছেন প্রতিষ্ঠিত। সামাজিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক সাহায্য চালিয়ে যেতে থালাপাতি বিজয়ের নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ‘বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’ নামের এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এখন সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন এই তারকা।

- Advertisement -

৩। একজন হার্ডকোর রজনীকান্ত ভক্ত
থালাপাতি বিজয় বিভিন্ন সময়েই বলেছেন রজনীকান্ত না থাকলে সিনেমার জগতে আসতেন না তিনি। বিজয় রজনীকান্তের একজন বিশাল ভক্ত এবং রজনীকান্তই বিজয়কে অভিনেতা হওয়ার জন্য উৎসাহ জুগিয়েছেন। একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে রজনীকান্তের হিট সিনেমা ‘আন্নামালাই’ এর একটি সংলাপ বলেই সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন থালাপাতি বিজয়।

৪। পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল
থালাপাতি বিজয় তার পরিবারের প্রতি প্রচণ্ড দায়িত্বশীল। নয় বছর বয়সে বিজয় তার বোনকে হারিয়েছিলেন যা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিলো। বিজয় তাই তার বোনের স্মরণে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানেরও নামকরন করেছেন। বিজয়ের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভি.ভি প্রডাকশন্স মানে হলো বিদ্যা-বিজয় প্রডাকশন্স।

৫। বলিউডের সিনেমায় অথিতি শিল্পী
তামিল সিনেমার বাইরে থালাপাতি বিজয়কে অন্য ইন্ডাস্ট্রির সিনেমায় খুব একটা দেখা যায়নি। তেলুগু কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও বলিউডের সিনেমায় দেখা যায়নি এই তারকাকে। বলিউডের সিনেমায় একবারই দেখা গেছে থালাপাতি বিজয়কে, সেটাও খুবই অল্প সময়ের জন্য। প্রভুদেবা পরিচালিত অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘রাওডি রাথর’ সিনেমায় ‘চিন্তা তা চিতা চিতা’ গানে দেখা গেছে তাকে। প্রভুদেবা এবং অক্ষয় কুমারের সাথে নাচতে দেখা গেছে বিজয়কে।

৬। কেরালাতে সবচেয়ে বড় নন-মালয় তারকা
কেরালাতে আল্লু অর্জুন জনপ্রিয় হলেও মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রির বাইরের সবচেয়ে বড় তারকা থালাপাতি বিজয়। কেরালাতে এই তারকার বিশাল ভক্ত রয়েছে, শুধু তাই নয় কেরালাতে বিজয়কে বক্স অফিস কিং বলা হয়ে থাকে। থালাপাতি বিজয় অভিনীত ‘থেরি’ সিনেমাটি কেরালাতে অনেক মালায়লাম সিনেমার চেয়েও বেশী আয় করেছিলো।

৭। অসংখ্য পুরষ্কার এবং ডক্টরেট
সিনেমা এবং সমাজে অগণিত অবদানের জন্য স্বকৃতি হিসেবে এই তারকা জিতেছেন অসংখ্য পুরষ্কার। এর মধ্যে রয়েছে তামিল নাড়ু রাষ্ট্রীয় ফিল্ম পুরষ্কার, শিল্প-সংস্কৃত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্মান কালাইমামানি এবং এমজিআর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননামূলক ডক্টরেট। প্রসঙ্গত কালাইমামানি পুরষ্কারটি থালাপাতি বিজয় অভিনয় শুরুর ছয় বছরের মধ্যে ১৯৯৮ সালে জিতেছেন।

প্রিয় পাঠক, থালাপাতি বিজয়কে নিয়ে উপরে আলোচিত ঘটনা ছাড়া যদি অন্য কোন ঘটনা আপানার জানা থেকে তাহলে মন্তব্যে জানিয়ে দিন ঝটপট। আর সিনেমার জগতে বিজয়ের যাত্রা আরো পরিপূর্ন হোক – এই কামনায়!

আরো পড়ুনঃ
প্রকাশ্যে থালাপাতি বিজয়ের নতুন সিনেমার ফার্স্টলুক পোষ্টার
যে ৫টি সিনেমা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম
নতুন সিনেমায় বিশাল অংকের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন থালাপাতি বিজয়

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ