যে ৫টি সিনেমা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম

থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম

থালাপাতি বিজয় – রজনীকান্তের পর তামিল সিনেমার সবচেয়ে বড় সুপারস্টার। বিগত কয়েক বছর ধরে একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার আসছেন এই তারকা। সাম্প্রতিক সময়ে তার মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার আয়েই প্রমান হয় যে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে তার ভক্ত। বিগত কয়েক বছর ধরে দর্শকদের কাছে একশন হিরো হিসেবে জনপ্রিয় হলেও থালাপাতি বিজয়ের শুরুটা ছিলো একজন তরুন এবং উচ্ছল তারকা হিসেবে। তামিল সিনেমার দর্শকদের কাছে রজনীকান্তের পরই থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম, যার সিনেমা মানেই উম্মাদনা। অগণিত ভক্ত এবং দুর্দান্ত অভিনয়ের কারনে নির্মাতাদের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম বিজয়।

- Advertisement -

তবে বিজয়ের আজকের এই অবস্থান একদিনে হয়নি। ধীরে ধীরে বিজয়কে প্রমান করতে হয়েছে তার যোগ্যতা এবং অর্জন করতে হয়েছে গ্রহনযোগ্যতা। শুরু দিকে রোম্যান্টিক কমেডি সিনেমায় বেশী দেখা গেলেও ৯০ দশকের শেষের দিকে কিছু একশন সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে ম্যাস তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন থালাপাতি বিজয়। নিজের ক্যারিয়ারে এমন অনেক সিনেমা আছে ভারতীয় সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলো থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম এবং প্রযোজকদের মুখে ফুটিয়েছিলো হাসি। বিজয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার স্টারডমকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে এরকম ৫টি সিনেমা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম

- Advertisement -

১। থিরুমালাই (২০০৩)
২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মাসালা একশন সিনেমা ‘থিরুমালাই’ পর্দায় থালাপাতি বিজয়কে একজন একশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর আগে ‘ফ্রেন্ডস’, ‘খুশি’ এবং ‘প্রিয়ামানাভালে’ সিনেমাগুলোতে বিজয়কে দেখা গেছে চার্মিং কমেডি চরিত্রে। এই সিনেমাগুলোতে তার অনবদ্য অভিনয় পারিবারিক দর্শকদের কাছে তাকে কাঙ্ক্ষিত তারকা করে তোলে। কিন্তু ‘থিরুমালাই’ তামিল সিনেমায় তাকে একশন হিরোর ইমেজ দেয় এবং তার জন্য নতুন একটি রাস্তা তৈরি করতে সাহায্য করে। ‘থিরুমালাই’ সিনেমাটিকে থালাপাতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম

২। ঘিলি (২০০৪)
যদিও ‘থিরুমালাই’ সিনেমা দিয়ে তার একশন হিরো হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিলো, ‘ঘিলি’ সিনেমাটিকে থালাপাতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সিনেমাটিতে দুর্দান্ত কিছু একশন দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। ‘ঘিলি’ সিনেমাটি শুধু তামিল নাড়ু নয়, পুরো দক্ষিন ভারতে থালাপাতি বিজয়ের স্টার ইমেজকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে। বক্স অফিসে একাধিক রেকর্ড ভঙ্গ করে সিনেমাটি ব্লকবাস্টার তকমা পায়। এই সিনেমা মুক্তির পর বিজয়ের ভক্তের সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে।

থালাপাতি বিজয়ের স্টারডম

৩। পোককিরি (২০০৭)
মহেশ বাবু অভিনীত তেলুগু সিনেমার রিমেক ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পোককিরি’। সেই সময়ে থালাপাতি বিজয় বেশ কয়েকটি রিমেক সিনেমায় অভিনয় করছিলেন। প্রভু দেবা পরিচালিত ‘পোককিরি’ সিনেমাটি এর একশন দৃশ্যগুলোর জন্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলো। এছাড়া সিনেমাটির কমেডি দৃশ্য এবং গানও জনপ্রিয় হয়েছিলো। টানা ২০০ দিনের বেশী প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়েছিলো এবং বক্স অফিসে সফল সিনেমা হিসেবে নাম লিখিয়েছিলো। পরবর্তিতে নির্মাতা প্রভু দেবা সালমান খানকে নিয়ে সিনেয়াতির হিন্দি সংস্করণ নির্মান করেছিলেন। ‘ওয়ান্টেড’ নামের এই সিনেমাটিও বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছিলো।

৪। থুপাক্কি (২০১২)
বেশ কয়েকটি সাধারন হিট সিনেমার পর ২০১২ সালে মুক্তি পায় থালাপাতি বিজয় অভিনীত ‘থুপাক্কি’ সিনেমাটি। এই সিনেমায় বিজয়কে একজন স্টাইলিস্ট একশন হিরো রুপে দেখা গেছে। সিনেমাতে বিজয়ের ‘I’m Waiting’ সংলাপটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। ‘শিভাজিঃ দ্যা বস’ এবং ‘এন্থিরান’ এর পর তৃতীয় সিনেমা হিসেবে বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপি আয় করে মুরুগুদাস পরিচালিত এই সিনেমা। মুরুগুদাসের সাথে এরপর বিজয় আরো কিছু সিনেমা করেন যেগুলো বক্স অফিসে সফল হয়েছিলো। প্রসঙ্গত, ‘থুপাক্কি’ সিনেমাটিও বলিউডে রিমেক হয়েছিলো। একই পরিচালক সিনেমাটি হিন্দিতে ‘হলিডে’ নামে পুননির্মান করেছিলেন। ‘হলিডে’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় কুমার।

৫। মার্সাল (২০১৭)
২০১৭ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘মার্সাল’ এ তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন থালাপাতি বিজয়। ‘থেরি’ সিনেমার বিশাল সাফল্যের পর বিজয় দ্বিতীয় বারের মত অভিনয় করেন নির্মাতা এটলি কুমারের সিনেমায়। ভারতের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতিকে প্রতিপাদ্য করে নির্মিত হয়েছিলো সিনেমাটি। সিনেমাতে বাবা এবং দুই ভাই – মোট তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন থালাপাতি বিজয়। সিনেমাটি তামিল ইন্ডাস্ট্রির পঞ্চম এবং বিজয়ের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হিসেবে আবির্ভুত হয়। ‘মার্সাল’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য থালাপাতি বিজয় ২০১৮ সালে ইউকে ন্যাশনাল ফিল্ম এওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছিলেন।

এছাড়াও থালাপাতি বিজয় অভিনীত ‘বিগিল’, ‘থেরি’ এবং ‘মাষ্টার’ সিনেমাগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে সক্ষম হয়েছিলো। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পাঁচটি সিনেমাই থালাপাতি বিজয়কে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো। প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে থালাপাতি বিজয়ের আপনার প্রিয় সিনেমা কোনটি? মন্তব্যে জানিয়ে দিন আমাদের।

আরো পড়ূনঃ
নতুন সিনেমায় বিশাল অংকের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন থালাপাতি বিজয়
জাতীয় পুরস্কার জয়ী ভামশি পেইডিপ্যালির সিনেমায় থালাপাতি বিজয়
‘থালাপাতি ৬৫’ সিনেমায় বিজয়ের বিপরীতে অভিনয় করছেন পূজা হেগ

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ