বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কিছু বক্স অফিস সংঘর্ষ এবং তার ফলাফল

বক্স অফিস সংঘর্ষ

করোনা মহামারীর কারনে ওলট পালট হয়ে গেছে বলিউডের সিনেমাগুলোর মুক্তির পরিকল্পনা। বড় তারকাদের বড় বাজেটের একাধিক সিনেমা আটকে আছে মহামারীর কারনে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ২২শে অক্টোবর থেকে মহারাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে শুরু হচ্ছে সিনেমার প্রদর্শনি। এর প্রেক্ষিতে দেখা গেছে বলিউডে সিনেমা মুক্তির ঘোষনার হিড়িক। ইতিমধ্যে জানা গেছে এক ডজনেরও বেশী সিনেমার মুক্তির তারিখ। সিনেমাগুলোর বাজেটের কথা চিন্তা করে নির্মাতারা উৎসবকে কেন্দ্র করে মুক্তি দিতে চাচ্ছেন নিজেদের সিনেমা। কিন্তু দীর্ঘদিন মুক্তির অপেক্ষায় থাকায় একইসাথে সিনেমাগুলো মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতারা। বলিউডের সিনেমাগুলোর মুক্তির ঘোষনা থেকে বেশ কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কিছু বক্স অফিস সংঘর্ষ এবং তার ফলাফল নিয়ে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন।

- Advertisement -

বক্স অফিস সংঘর্ষ

১। দিল – ঘায়েল
১৯৯০ সালের ২২শে জুন বক্স অফিসে মুখোমুখি হয়েছিলো রাজ কুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘ঘায়েল’ এবং ইন্দ্র কুমার পরিচালিত সিনেমা ‘দিল’। দুটি সিনেমার প্রধান চরিত্রে ছিলেন যথাক্রমে সানী দেওল এবং আমির খান। ট্রেড বিশেজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করেই সিনেয়া দুটি একই দিনে মুক্তি দেন নির্মাতারা। অবশ্যই দুইটি সিনেমাই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছিলো, যদিও তুলনামূলক ভাবে ‘ঘায়েল’ সিনেমার চেয়ে ‘দিল’ সিনেমাটি বেশী আয় করতে সক্ষম হয়েছিলো। অন্যদিকে, রাজ কুমার সন্তোষীর অভিষিক্ত সিনেমা ‘ঘায়েল’ জাতীয় পুরষ্কারসহ একাধিক পুরষ্কার জিতেছিলো।

- Advertisement -

বক্স অফিস সংঘর্ষ

২। রাজা হিন্দুস্তানি – ঘাতক
‘দিল’ এবং ‘ঘায়েল’ সিনেমার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ই নভেম্বর আরো একবার বক্স অফিসে মুখোমুখি হয়েছিলেন আমির খান এবং সানী দেওল। এই দিনে একই সাথে মুক্তি পেয়েছিলো আমির খান অভিনীত ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ এবং সানী দেওল অভিনীত ‘ঘাতক’। ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় আমির খান একজন ট্যাক্সি চালকের ভূমিকায় অভিনয় করেন অন্যদিকে ‘ঘাতক’ সিনেমায় সানী দেওলকে রেসলার হিসেবে দেখা গেছে। সিনেমা দুটির মধ্যে ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়েছিলো, তবে ‘ঘাতক’ সিনেমাটিও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো।

৩। কুছ কুছ হোতা হ্যায় – বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ
নব্বইয়ের দশকের অন্যতম আলোচিত বক্স অফিস সংঘর্ষ ছিলো ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ এবং ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ সিনেমাগুলোর একই দিনে মুক্তি। করন জোহরের অভিষিক্ত সিনেমা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার হয়েছিলো। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান, কাজল এবং রানী মুখার্জি। অন্যদিকে ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন গোবিন্দ এবং অমিতাভ বচ্চন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমাটি ব্লকবাস্টার হলেও ‘বড়ে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ’ সিনেমাটিও ভালো ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছিলো।

বক্স অফিস সংঘর্ষ

৪। মোহাব্বাতে – মিশন কাশ্মীর
আরো একবার দিওয়ালীতে শাহরুখ খানে সিনেমা ‘মোহাব্বাতে’ মুখোমুখি হয়েছিলো ‘মিশন কাশ্মীর’ সিনেমার সাথে। ২০০০ সালের দিওয়ালীতে মুক্তিপ্রাপ্ত এই দুই সিনেমা বক্স অফিসে মুখোমুখি হলে সঞ্জয় দত্ত এবং হৃতিক রোশনকে পিছলে ফেলে সুপারহিট ব্যবসা করে ‘মোহাব্বাতে’। আদিত্য চোপড়া পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা কুঁড়াতে সক্ষম হয়েছিলো।

বক্স অফিস সংঘর্ষ

৫। লাগান – গাদার
আমির খান এবং সানী দেওল তৃতীয়বারের মত বক্স অফিসে মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০০১। এই বছরে একই দিনে মুক্তি পেয়েছিলো এই দুই তারকার সিনেমা ‘লাগান’ এবং ‘গাদারঃ এক প্রেম কাঁথা’। তবে এই সংঘর্ষের পরও দুটি সিনেমা বক্স অফিসে ব্যবসাসফল হয়েছিলো। শুধু তাই নয় সিনেমা দুটি বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত। এরমধ্যে ‘গাদারঃ এক প্রেম কাঁথা’ বক্স অফিসে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল সিনেমা হয় অন্যদিকে আমির খানের ‘লাগান’ সিনেমাটি অস্কারে ভারতের অফিশিয়াল সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলো।

বক্স অফিস সংঘর্ষ

৬। বীর জারা – এতরাজ
২০০৪ সালের দিওয়ালীতে বক্স অফিসে মুখোমুখি হয়েছিলো যশ চোপড়া পরিচালিত কালজয়ী রোম্যান্টিক সিনেমা ‘বীর জারা’ এবং আব্বাস-মাস্তান পরিচালিত সিনেমা ‘এতরাজ’। শাহরুখ খান এবং প্রীতি জিনতা জুটির ‘বীর জারা’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার ব্যবসা করেছিলো। অন্যদিকে অক্ষয় কুমারের থ্রিলার সিনেমা ‘এতরাজ’ও ব্যবসা সফল হয়েছিলো। বক্স অফিসে ঝড় তোলার পাশাপাশি ‘বীর জারা’ সিনেমাটি সে বছর একাধিক পুরষ্কারও জিতেছিলো।

৭। তারে জমিন পার – ওয়েলকাম
২০০৭ সালের ক্রিসমাসে বক্স অফিসে মুখোমুখি হয়েছিলেন আমির খান এবং অক্ষয় কুমার। তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হচ্ছে যথাক্রমে ‘তারে জমিন পার’ এবং ‘ওয়েলকাম’। দুটি সম্পূর্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছিলো। ‘তারে জমিন পার’ সেখানে ডিসলেক্সিক শিশুর গল্প নিয়ে নির্মিত সেখানে ‘ওয়েলকাম’ ছিলো পুরোপুরি কমেডি সিনেমা। অভিনয়ের পাশাপাশি তারে জমিন পার’ সিনেমাটি পরিচালনাও করেছেন আমির খান।

৮। ওম শান্তি ওম – সাওয়ারিয়া
দিওয়ালীতে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড বাদশা শাহরুখ খান অভিনীত সিনেমাগুলো বরাবরই ব্যবসা সফল হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের দিওয়ালীতে মুক্তি পেয়েছিলো শাহরুখ খান অভিনীত সিনেমা ‘ওম শান্তি ওম’। একই দিনে মুক্তি পেয়েছিলো নতুন মুখ রনবির কাপুর এবং সোনাম কাপুরকে নিয়ে সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত সিনেমা ‘সাওয়ারিয়া’। সুপারহিট গান এবং দুর্দান্ত প্রচারের কারনে ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্লকবাস্টার ব্যবসা করেছিলো। অন্যদিকে ‘সাওয়ারিয়া’ সিনেমাটি সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরেছিলো।

৯। জাব তাক হ্যায় জান – সন অফ সর্দার
২০১২ সালের দিওয়ালীতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জাব তাক হ্যায় জান’ এবং ‘সন অফ সর্দার’ সিনেমা দিয়ে সরাসরি বিরোধে জড়ান সিনেমাটির নির্মাতারা। প্রেক্ষাগৃহ দখলের জন্য শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে যশ রাজ ফিল্মসের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন অজয় দেবগন। তবে মুক্তির পর ‘জাব তাক হ্যায় জান’ এবং ‘সন অফ সর্দার’ সিনেমা দুটিই বক্স অফিসে সমান সমান আয় করেছিলো। একই দিনে মুক্তি পেলেও শাহরুখ খান এবং অজয় দেনগন অভিনীত সিনেমা দুটি ১০০ কোটির উপরে আয় করতে সক্ষম হয়েছিলো।

১০। দিলওয়ালে – বাজিরাও মাস্তানি
২০১৫ সালের ক্রিসমাসে মুক্তি পেয়েছিলো রোহিত শেঠী পরিচালিত ‘দিলওয়ালে’ এবং সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘বাজিরাও মাস্তানি’ সিনেমা দুটি। মুক্তির আগে প্রচুর হাইপ থাকার কারনে বক্স অফিসে শুরুতে কিছুটা এগিয়ে ছিলো শাহরুখ খানের ‘দিলওয়ালে’, কিন্তু পরবর্তিতে সিনেমাটিকে পিছনে ফেলে ব্লকবাস্টার হয় ‘বাজিরাও মাস্তানি’। ‘দিলওয়ালে’ সিনেমাটির জন্য শাহরুখ খান যেখানে সমালোচিত হয়েছিলেন, সেখানে ‘বাজিরাও মাস্তানি’ একাধিক পুরষ্কার জিততে সক্ষম হয়েছিলো। ‘বাজিরাও মাস্তানি’ সিনেমা দুটি রনবীর সিং এবং দীপিকা পাডুকোনকে বলিউডে সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো।

১১। এ দিল হ্যায় মুশকিল – শিবায়
অজয় দেবগনের স্বপ্নের সিনেমা ‘শিবায়’ দিওয়ালীতে মুখোমুখি হয়েছিলো করন জোহর পরিচালিত ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমার। এই দুই সিনেমার মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়েছিলেন করন জোহর এবং অজয় দেবগন। বিগ বাজেটের সিনেমা ‘শিবায়’ পরিচালনা করেছেন অজয় দেবগন নিজেই। বক্স অফিসে দুটি সিনেমাই ১০০ কোটি রুপির উপরে আয় করেছিলো। কিন্তু বাজেট বেশী হওয়ার কারনে ‘শিবায়’ সিনেমাটি শুধুমাত্র খরচ উঠাতে সক্ষম হয়েছিলো। অন্যদিকে ‘এ দিল হ্যায় মুশকিল’ সিনেমাটি ব্যবসা সফল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

বক্স অফিস সংঘর্ষ

১২। রইস – কাবিল
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একই দিনে মুক্তি পেয়েছিলো শাহরুখ খান অভিনীত ‘রইস’ এবং হৃতিক রোশন অভিনীত ‘কাবিল’। ‘কাবিল’ সিনেমার তুলনায় ‘রইস’ সিনেমাটি বেশী সংখ্যক স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছিলো। বেশ কয়েকবার মুক্তি পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭ই জানুয়ারি মুক্তি পায় ‘রইস’ অন্যদিকে এই দিনে মুক্তির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো ‘কাবিল’। ‘বইস’ বক্স অফিসে ১৩০ কোটি রুপির উপর আয় করতে সক্ষম হয়েছিলো তবে ‘কাবিল’ সিনেমাটিও ব্যবসা সফল হিসেবে আবির্ভুত হয়েছিলো।

প্রিয় পাঠক, উপরে উল্লেখিত বক্স অফিস সংঘর্ষের মুখোমুখি সবগুলো সিনেমাই বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলো। এই সিনেমাগুলোর মধ্যে কোন সিনেমাটি আপনার বেশী পছন্দের তা জানিয়ে দিন মন্তব্যে। এছাড়া আপনি কি মনে করেন বক্স অফিসে সংঘর্ষ সিনেমাগুলোর জন্য আশির্বাদ না অভিশাপ?

আরো পড়ুনঃ
সিনেমায় পট পরিবর্তনের ২০২২: নতুন বছরে নতুন প্রজন্মের দখলে বলিউড
সুরিয়াবংশী থেকে রাম সেতু: বলিউডে সিনেমা মুক্তির ঘোষনার হিড়িক!

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ