প্রথম সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে ভালো অবস্থানে ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং’

প্রথম সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে

চলতি বছরে হলিউডের বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরেছে। তবে ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ভিন্ন কিছু করতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ‘মিশন ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পেয়েছে সপ্তম সংস্করণের প্রথম পর্বটি। হলিউডের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ডেডলাইনের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম সপ্তাহান্তে বক্স অফিসে ভালো অবস্থানে রয়েছে ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং’ সিনেমাটি।

১২ই জুলাই বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছিলো ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং – প্রথম পর্ব’। বুধবার মুক্তির কারনে বক্স অফিসে পাঁচদিনের বর্ধিত প্রথম সপ্তাহান্ত উপভোগ করেছে টম ক্রুজ অভিনীত আলোচিত এই সিনেমা। ডেডলাইনের প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, প্রথম সপ্তাহান্তে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এই সিনেমা আয় করেছে ২৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৭০টি দেশের আন্তর্জাতিক বক্স অফিস থেকে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে জাপান বক্স অফিসের আয় এখানে অন্তর্ভূক্ত নয়।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস থেকে সিনেমাটির আয় ছিলো ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটি উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে আয় কিছুটা কম হয়েছে সিনেমাটির দেশীয় বক্স অফিসে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। অনুমান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে পাঁচদিনের সপ্তাহান্তে সিনেমাটির আয় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রত্যাশা করা হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ইতিমধ্যে ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং – প্রথম পর্ব’ সিনেমাটি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ উদ্বোধনী নিশ্চিত করেছে। বিশ্বব্যাপী আইম্যাক্সে ‘মিশন ইম্পসিবল’ সপ্তম পর্ব আয় করেছে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইম্যাক্স থেকে এটি এখন পর্যন্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ এবং ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, কোরিয়া, হংকং, তাইওয়ান, মেক্সিকো এবং ব্রাজিলে ফ্র্যাঞ্চাইজির উদ্বোধনী পেয়েছে সিনেমাটি।

‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং – প্রথম পর্ব’ সিনেমাটির আগে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পাওয়া সিনেমা ছিলো ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ফলআউট’। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্বোধনীর পর বিশ্বব্যাপী মোট আয়ের পরিমাণ ছিলো ৭৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘মিশন ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্ছাইজির সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হওয়া নিশ্চিত হলেও, এটি টম ক্রুজের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত টম ক্রুজ অভিনীত ‘টপ গানঃ মেভেরিক’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশী আয় করতে সক্ষম হয়েছিলো।

এদিকে আগামী সপ্তাহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে হলিউডের আরো কয়েকটি আলোচিত সিনেমা। মার্গট রবির ‘বার্বি’ এবং পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আগামী সপ্তাহান্তে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে টম ক্রুজের ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং – প্রথম পর্ব’ কিছুটা পতনের মুখ পরবে। আর ইতিমধ্যে ‘মিশন ইম্পসিবলঃ ডেড রেকনিং – পার্ট ওয়ান’ সিনেমাটি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ রটেন টমেটোস স্কোর অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, এটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া সিনেমা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা অ্যাকশন গল্পের ‘মিশন ইম্পসিবল – ডেড রেকনিং’ পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য রচনা করেছেন ক্রিস্টোফার ম্যাককুয়ারি। টম ক্রুজ অভিনীত ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের সপ্তম কিস্তি এবং ম্যাককুয়ারি পরিচালিত সিরিজের তৃতীয় কিস্তি হতে যাচ্ছে এই সিনেমা। ‘রগ নেশন’ এবং ‘ফলআউট’র পর তৃতীয়বারের মতো সিরিজের সিনেমা পরিচালনায় ফিরছেন এই নির্মাতা। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ, ভিং রামেস, হেনরি চের্নি, সাইমন পেগ, রেবেকা ফার্গুসন, ভেনেসা কিরবি এবং ফ্রেডেরিক শ্মিড্ট।

আরো পড়ুনঃ
ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পেতে যাচ্ছে ‘মিশন ইম্পসিবল’ সপ্তম পর্ব
টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রশংসিত সিনেমা ‘ডেড রেকনিং’
‘মিশন: ইমপসিবল’ নতুন পর্বে আবারো টম ক্রুজের দুঃসাহসী স্টান্ট

By নিউজ ডেস্ক

এ সম্পর্কিত

%d