কলকাতার বাংলা সিনেমায় নগ্নতা এবং কিছু বিছিন্ন ভাবনার ডালপালা (প্রথম পর্ব)

কলকাতার বাংলা সিনেমায় নগ্নতা

গত এক দশকে কলকাতা বাংলা সিনেমায় ঘটে গেছে বিশাল পালাবদল। কলকাতার বাংলা সিনেমায় নগ্নতা এবং সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বদলেছে দর্শকের চাহিদা, ইমেজ আর দেখার চোখও! দর্শকশ্রেণির চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মেইনস্ট্রিম আর আর্টফর্মের মিশেলে সেখানে তৈরি হয়েছে মিডল রোড বা মধ্যপন্থার এক নিজস্ব ধারার সিনেমা। সিনেমার গল্পের ধরণও পাল্টে গেছে আমূল, নাগরিক জীবনের নানা প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, প্রেম বিরহ আর অবদমনের গল্পগুলো হয় সিনেমার বিষয়। যে সিনেমাগুলো বেশীরভাগ সময়ই যৌনতার আবরণে মোড়ানো থাকে।

- Advertisement -

সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার সিনেমায় মূল ধারা আর আর্ট ফর্মের মিশেলে যে ধারার সূচনা হয়েছে, তার অগ্রপথিক ধরা হয় অঞ্জন দত্ত, ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো মেধাবী নির্মাতাদের। নিউ এজ বাংলা সিনেমার প্রবর্তকও বলা হয় তাদের। যৌনতাকে শৈল্পিকভাবে কিভাবে উপস্থাপন করা যায়, এবং তা মেইনস্ট্রিম আর আর্টফর্মের সমন্বয়ের ভিতর দিয়ে চর্চা করা যায় তা ভীষণরকমভাবে পর্দায় তুলে ধরে দেখিয়েছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। প্রায় ছবিতেই তিনি বিচিত্র সম্পর্কের গল্প বলে গেছেন।

চোখের বালি, নৌকাডুবি, অন্তরমহলের মতোন সিনেমায় ঋতুপর্ণের ছবিতে পরকিয়া সম্পর্কগুলোর রগরগে দৃশ্যায়ন আমরা দেখেছি, তার ছবিতে দুই পুরুষের সমকামিতা এবং লিঙ্গান্তর বা রূপান্তরিত নারী পুরুষের গল্প দেখিছি। অঞ্জন দত্ত তার সিনেমার ভিতর দিয়ে দেখিয়েছেন সমাজে সম্পর্কের রকমফের। তাদের পরবর্তী সময়ে প্রায় সব ছবি নির্মাতাদের মধ্যে এই বিষয়টি ছড়িয়ে যায়, সৃজিত মূখার্জী থেকে শুরু করে তরুণ নির্মাতা ‘কিউ কৌশিক’ পর্যন্ত সকলের ছবিতে রগরগে যৌনতার উপস্থাপন ভীষণরকম উপস্থিত।

- Advertisement -

পাওলি দামের ছত্রাক যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা তো জানেন, কী ছিল সেই ছবিতে। অনুব্রত আর পাওলি পর্দায় শুধু নগ্নই হননি। একেবারে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর এই বঙ্গতনয় তনয়ার যৌন দৃশ্যের শুট হয়েছিল ক্যামেরায়। দেখেছিল সারা বিশ্ব। সারা বিশ্ব এই কারণেই, কারণ বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য কান ফেস্টিভালে দেখানো হয়েছিল ছবিটি। প্রশংসাও পেয়েছিল প্রচুর। অনেকে বলবেন, এ যে লজ্জার বিষয়। গড়পাড়ের মেয়ে কিনা বিশ্ব বাজারে উলঙ্গ হলো? কলকাতার বাঙালির মাথা কাটা গেল। কিন্তু যাঁরা শিল্পী, তাঁরা জানেন, এক নারীদেহকে কতটা সোহাগ ঢেলে বানিয়েছে প্রকৃতি। সেই দেহ নিঃসন্দেহে আবেদনময়ী। কিন্তু সেই সঙ্গে শিল্পও ভরে আছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। বাংলা ছবি তাইই দেখিয়েছে। তা হোক না গুটিকয়েক। হোক না ব্যান হয়ে যাওয়া চলচ্চিত্র।

ব্যবসায়িকভাবেও শতভাগ সফল এই মিডলরোড সিনেমাগুলো। ফলে আর্টফর্মের সিনেমার উপর এতোদিন যে অপবাদ ছিলো যে, এগুলো মানুষ দেখে না, থিয়েটারে মুখ থুবরে পড়ে সিনেমাগুলো; সেই অপবাদ ঘুচিয়েছে মিডলরোড বা মধ্যপন্থার সিনেমাগুলোর উদ্ভাবনের ফলে। তবে পশ্চিম বাংলার সিনেমা বিজ্ঞজনরা সিনেমার এই নব ধারাকে ‘মিডলরোড’ বা ‘মধ্যপন্থা’ যে নামেই অবিহিত করুক না কেনো, সেসব ছবিগুলোর বিরাট অংশজুড়ে থাকে যৌনতার ছড়াছড়ি।

- Advertisement -

সিনেমার পর্দায় এই যৌনতা ইচ্ছেপূর্বকই করা হয়। দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই একটা ভালো গল্পের মধ্যেও আচমকা ঢুকে পড়ে যৌন সুড়সুড়ি। এটাকে বলা যায় কলকাতা বাংলা সিনেমায় এক ধরণের কৌশল; আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পেতেই এমনটি করা হয়। নাগরিক জীবনের গল্প বলার প্রেক্ষিতে ছবিগুলোতে সমকামিতা, পরকিয়া আর অবৈধ সম্পর্কগুলোর খুব রগরগে দৃশ্যায়ন থাকে মধ্যপন্থি প্রায় ছবিগুলোতেই।

কলকাতার নির্মাতা থেকে অভিনয় শিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন যথার্থ পরিবর্তিত। হর হামেশায় কোনো সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে তারা রাজি হয়ে যাচ্ছেন। কলকাতার মেইনস্ট্রিম সিনেমাতেও এতো সাহসী ভূমিকায় কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের দেখা যায় না। কলকাতা বাংলার শৈল্পিক সিনেমার পরতে পরতে যৌনতা দিয়ে মোড়ানো, তা বলা কোনোভাবেই যে দুঃসাহসী কিছু নয়, তা কয়েকটি ছবির আলোচনাতেই স্পষ্ট হবে।

কলকাতা বাংলার তরুণ প্রতিভাশালী নির্মাতা কৌশিক, যিনি কিউ নামেই পরিচিত। ‘গান্ডু’ নির্মাণ করেই কলকাতা বাংলা সিনেমায় বেশ হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।গান্ডু আগাগোড়া একটা ‘এক্স’ রেটেড একটি সিনেমা। কলকাতার মতো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এমন দুর্দান্ত সাহসী কাজ তার আগে কেউ করার সাহস করেনি। যদিও ‘গান্ডু’ শেষ পর্যন্ত অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ‘গান্ডু’ ছবিতে ঋ যখন উর্ধ্বাঙ্গ উন্মোচন করেছিলেন, অনেকেই তা মেনে নিতে পারেনি। আবার অনেকে সাময়িক আহ্লাদের জন্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছে সেই নগ্নতা।

ঋ তখন এমন একজন নায়িকা, পর্দার সামনে জামাকাপড় খুলতে যাঁর আপত্তি নেই। কসমিক সেক্সের বেলাতেও তাই। ওখানে তো আবার ঢাক পিটিয়ে মেনস্ট্রুয়েশন দেখানো হয়েছে। অবশ্য ঋ বলেছেন, ছবির প্রয়োজনে, স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে, তিনি সবই করতে পারেন। শোনা যায়, একই কথা নাকি বলেছেন পাওলি দামও। তাই ছত্রাক নিয়ে যখন সমালোচনার বন্যা বইছে, তখন পাওলি কান ফেস্টিভালে প্রশংসার আস্বাদ গ্রহণ করছেন।

আরো পড়ুনঃ
বক্স অফিসে মুখোমুখি হচ্ছেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী ও নুসরাত জাহান
পর্দায় সাহসী দৃশ্যে হাজির হয়েছিলেন টলিউডের যে আটজন অভিনেত্রী!

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -
- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ