খোকন এবং রুবেল: বন্ধুত্ব, পেশাদারিত্ব আর সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

খোকন এবং রুবেল

১৯৬০ সালে জন্মগ্রহন করা মাসুম পারভেজ রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় বড় ভাই মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা প্রযোজিত ও শহিদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লড়াকু’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। প্রথম ছবিতেই বাংলাদেশের দর্শকদের বাজিমাৎ করে দেন রুবেল তাঁর মার্শাল আর্ট এর কলাকৌশল দেখিয়ে। সেই থেকে শুরু বাংলা চলচ্চিত্রে একটি ‘রুবেল’ অধ্যায়ের । এরপর ‘উদ্ধার’, ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুস্ঠি’, ‘মারকশা’ ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়ে তৎকালীন সময়ের সকল প্রযোজক ও পরিচালকের নজরে পড়েন এই অভিনেতা। কিন্তু তখনও খোকন ও মাসুদ পারভেজ ছাড়া অন্য কেউই মার্শাল আর্ট ভিত্তিক ছবি নির্মাণ করতে সাহস পেতেন না। এই সময় পরিচালক আহমেদ সাত্তার ‘হুংকার’ ও ‘বীর বিক্রম’ এবং আবুল খায়ের বুলবুল ‘আমি শাহেনশাহ’ ছবি দিয়ে এগিয়ে আসেন। দুই পরিচালকও রুবেলকে দিয়ে সাফল্য পেলেন।

- Advertisement -

এরপর একে একে মুক্তি পেতে লাগলো রুবেল অভিনীত ‘বিষদাঁত’, ‘বজ্রপাত’, ‘অকর্মা’, ‘ইনকিলাব’, ‘আজাদ’, ‘উত্থান পতন’, ‘সন্ত্রাস’, ‘শেষ আঘাত’, ‘দেশ দুশমন’, ‘অর্জন’ এবং ‘লাওয়ারিশ’ এরমত সিনেমা। প্রত্যেকটি ছবিই বক্স অফিসে সাফল্য পেলে রুবেলের চাহিদা বেড়ে যায়। খোকনের সেই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে। কারন রুবেল ছাড়া সেই সময়ে একমাত্র ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম ছাড়া কোন নায়কই মার্শাল আর্ট জানতো না। ফলে সিনেমা মুক্তির দিক দিয়ে সেই সময় রুবেলের ছবি একটির পর একটি আসতেই থাকে। এমনও অনেক সপ্তাহ গেছে যে নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত দুটি ছবির নায়কই থাকতেন রুবেল। ফলে একে একে মুক্তি পেতো লাগলো ‘মা মাটি দেশ’, ‘গোলামির জিঞ্জির’, ‘অধিনায়ক’, ‘বীরযোদ্ধা’, ‘অন্যায় অত্যাচার’, ‘মালামাল’, ‘আন’, ‘ওমর আকবর’, ‘রুবেল আমার নাম’, ‘মহাগুরু’, ‘মিন্টু সম্রাট’, ‘লড়াই’, ‘সম্পর্ক’, ‘মহাশত্রু’, ‘মৃত্যুদণ্ড’, ‘মায়ের কান্না’, ‘টপ রংবাজ’, ‘চোখের পানি’, ‘জ্বলন্ত আগুন’, ‘ট্রাক ড্রাইভার’, ‘বিক্রম’, ‘ডন’ নামক একেকটি মারমার কাটকাট ছবি আর আমরা হুমড়ি খেতাম সিনেমা হলে। তখন আমাদের কাছে রুবেল মানেই দুর্দান্ত অ্যাকশন ছবির মহানায়ক। টেলিভিশনের পর্দায় বিজ্ঞাপনের সময় খেয়াল রাখতাম রুবেলের কোন নতুন ছবির ট্রেলার দেখাচ্ছে কিনা। স্কুল থেকে ফিরে রেডিওতে কান পেতে থাকতাম রুবেলের কোন নতুন ছবির বিশেষ অনুষ্ঠান দিচ্ছে কিনা গাজি মাজহারুল ইসলামের কণ্ঠে। আমাদের হাঁটা চলার সময় সবসময় রুবেলের মতো বডিল্যাংগুয়েজ থাকতো যেন সব সময় প্রস্তুত ঢিসুম ঢিসুম করার জন্য।

সেই সময়ে সিলেটের ‘মনিকা সিনেমা’ (বর্তমানে হলটি নেই) হল সবার কাছে আলাদা পরিচিত পেয়েছিল রুবেলের ছবিগুলো প্রদর্শনীর কারনে। রুবেলের নতুন ছবি মুক্তি পাওয়া মানেই মনিকায় আসবে। কারন সেই সময়ে রুবেলের সবগুলো ছবি একমাত্র মনিকা সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথে প্রদর্শনী করতো। মনিকার ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে পরবর্তীতে অন্যান্য হলগুলোও রুবেলের ছবি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিযোগিতা করতো। পরবর্তীতে নন্দিতা ও লালকুঠি সিনেমা রুবেলের নতুন ছবিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ জে রানার ‘মহাগুরু’ ছবির আগে রুবেলের অন্য কোন সিনেমা আমি মনিকা ছাড়া দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।

- Advertisement -

অন্যদিকে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা ৭০’র দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন। প্রযোজক পরিচালক মাসুদ পারভেজ এর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন শহীদুল ইসলাম খোকন। দীর্ঘ ১০ বছর গুরু মাসুদ পারভেজ এর সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর পূর্ণ পরিচালক হয়ে ‘পদ্মগোখরা’ ছবির মাধ্যমে খোকন আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু বিধিবাম! প্রথম ছবি ব্যবসায়িক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর একই ভাবে ২য় ছবিও ব্যবসায়িক ভাবে ব্যর্থ হয়। এরপর এগিয়ে খোকনের ওস্তাদ মাসুদ পারভেজ। নিজের ছোট ভাই রুবেল কে চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে প্রমোট করার দায়িত্ব দেন খোকনের কাঁধে। নিজেদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পারভেজ ফিল্মস থেকে নির্মাণ করলেন ‘লড়াকু’ নামের একটি আর ছবি পরিচালনার দায়িত্ব দেন খোকনের হাতে। সেই শুরু হলো খোকন এবং রুবেল দুই নবাগত নায়ক পরিচালক জুটির যাত্রা।

খোকনের ৩য় আর রুবেলের প্রথম ছবি ‘লড়াকু’ মুক্তি পাওয়ার পরেই বাজিমাৎ করে দিলেন। সেই সময়কার হিন্দি ছবিতেও অ্যাকশনের যে কৌশল দেখা যায়নি তা দেখা গেলো বাংলা ছায়াছবিতে। হলিউডের ব্রুসলির ছবিতে ভিসিআর এর মাধ্যমে দর্শক যা দেখতে পেতো সেটাই দেখলো ‘লড়াকু’ সিনেমায়। তবে মাসুদ পারভেজ এর আগেই ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমকে একটি মার্শাল আর্ট ভিত্তিক ছবি বানান। কাহিনীতে নতুনত্ব, অ্যাকশনে নতুনত্ব ও আলম খানের সুরের দুরদান্ত গানে ভরপুর ‘লড়াকু’ হয় সুপারহিট। ‘লড়াকু’র সফলতার পর খোকনকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

- Advertisement -

খোকন এবং রুবেল

এরপর খোকন এবং রুবেল একটানা উপহার দিয়ে গেছেন ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’, ‘বিপ্লব’, ‘উত্থান পতন’, ‘সন্ত্রাস’, ‘টপ রংবাজ’, ‘শত্রু ভয়ংকর’, ‘অপহরণ’, ‘সতর্ক শয়তান’, ‘দুঃসাহস’, ‘লম্পট’, ‘রাক্ষস’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘ঘাতক’, ‘ভণ্ড’, ‘নরপিশাচ’ ও ‘পাগলা ঘণ্টা’ ছবিগুলো । ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’, ‘বিপ্লব’ ছবিগুলো ‘লড়াকু’র মতো সুপারহিট হওয়ায় একটানা চারটি সুপারহিট ছবি উপহার দেন খোকন। মাঝে ‘উত্থান পতন’ ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ না হলেও আগের তিনটির মতো সুপারহিট হয়নি। ‘বীরপুরুষ’ ও ‘বিপ্লব’ ছবি দুটো দর্শকদের মনে থাকবে জমজমাট কাহিনী আর দুর্দান্ত সব অ্যাকশন দৃশ্যর জন্য। যেখানে গুলী বোমার কোন কাজ নেই, পুরোটাই ছিল দুর্দান্ত সব নতুন নতুন কংফুর কলাকৌশল। ‘বিপ্লব’ ছবিতে সর্বপ্রথম দর্শক কিছুক্ষণের জন্য রুবেলকে ন্যাড়া মাথায় দেখতে পায়।

খোকনের ছবিতে রুবেল ছাড়াও আরও নতুন কিছু মুখ নিয়মিত হতে লাগলো যারা সকলেই মার্শাল আর্টে পারদর্শী ছিল। এই ক্ষেত্রে ড্যানি সিডাক, ইলিয়াস কোবরা, সিরাজ পান্না ও চিত্রনায়িকা মিশেলার কথা না বললেই নয়। সিরাজ পান্না ছিলেন তখন রুবেলের সব ছবির বিশেষ আকর্ষণ যিনি মার্শাল আর্টে ছিলেন দুর্দান্ত। বিশেষ করে ‘বীরপুরুষ’, ‘বজ্রমুষ্ঠি’ ও ‘বিপ্লব’ ছবিতে সিরাজ পান্নার দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের মনে থাকবে চিরদিন। তিনটি ছবিতেই রুবেলকে মার্শাল আর্ট শেখাতে দেখা যায় ছোটখাটো হ্যাংলা পাতলা সিরাজ পান্নাকে। আর মিশেলা হলেন একমাত্র নায়িকা যিনি মার্শাল আর্টে পারদর্শী ছিলেন তাই মিশেলাকে খোকন ও মাসুদ পারভেজ ছাড়া অন্য পরিচালকদের ছবিতে দর্শক পায়নি।

‘লড়াকু’ থেকে ‘পাগলা ঘণ্টা’ পুরো ১৫ টি বছর ছিল খোকন এবং রুবেল জুটির সব দুর্দান্ত ব্যবসা সফল ছবির দাপিয়ে বেড়ানো। তাই পরিচালক খোকনের ছবি আমাদের কাছে সেই সময় ছিল রুবেলের দুর্দান্ত কোন নতুন ছবি পাওয়ার প্রত্যাশা যা ১৬ আনাই বলতে গেলে উসুল। চিত্রনায়ক রুবেলের জনপ্রিয়তার পেছনে যেমন খোকনের অবদান আছে ঠিক তেমনি খোকনের জনপ্রিয়তার পেছনে রুবেলের অবদান আছে যা অস্বীকার করার উপায় নাই। খোকন ছিলেন তাঁর সময়ের পরিচালকদের মধ্য একধাপ এগিয়ে। চিন্তা ভাবনাও ছিল অনেক ফারাক। যা তাঁর প্রতিটি ছবিতে স্পষ্ট প্রমান পাওয়া যায়। নতুন নতুন কংফুর কলাকৌশল ছিল খোকনের ছবির অন্যতম একটি পার্থক্য। কখনও নিঞ্জা কংফু, কখনও জাম্পিং কংফু, কখনও বজ্রমুষ্ঠি, কখনও ক্যাটিং কংফু, কখনও ড্যান্সিং কংফু, কখনও ফুটবল কংফু এই ভাবে নিত্যনতুন কলাকৌশল একেকটি ছবিতে হাজির করতেন। ৯০ দশকের শেষ দিকে খোকনের ‘ভণ্ড’ ছবিটি আমাদের চলচ্চিত্রের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলা চলচ্চিত্রে এমন কমেডি অ্যাকশন ছবি দর্শক এর আগে দেখেনি বললেই চলে। সেই সময় সব ছবিতেই কিছু না কিছু কমেডি দৃশ্য থাকতো কিন্তু খোকনের ‘ভণ্ড’ ছবিটি সেই গতানুগতিক কমেডি ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল যা সচরাচর বাংলা ছবিতে দেখা যায়নি। পুরো ছবিতে ফরিদি ও এটিএম শামসুজ্জামান জুটি অসাধারন অভিনয় করে দর্শকদের মনে গেঁথে গেছেন।

খোকনের অন্য সব ছবিতে ফরিদি যেখানে ছিলেন দুর্ধর্ষ ভয়ানক সেখানে ‘ভণ্ড’ ছবিতে ফরিদি পুরোই ব্যতিক্রম এক হাসির খোরাক। এই ছবিটিও আমরা সিনেমার মধ্য বিরতির ট্রেলার দেখে পুরো ছবিটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম। মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি সেই বছরের সেরা ১০ দশে তো ছিলই এমন কি সেরা ৫ টি ব্যবসা সফল ছবির তালিকায় চলে আসে অনায়াসে। খোকনের ‘ভণ্ড’ ছবিটি আমাদের সময়ের দর্শকদের পেরিয়ে এই প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের যারা বাংলা বাণিজ্যিক ছবিকে অবজ্ঞা করে তারাও খোকনের ‘ভণ্ড’ ছবিটির ভক্ত। বাংলা দেশের যে কজন পরিচালক তখন বেশ খুঁতখুতে স্বভাবের বা সবকিছু নিখুঁত চাইতেন তাদের মধ্য খোকন অন্যতম। একেকটি দৃশ্য তিনি খুব যত্ন সহকারে বানাতেন যেখানে ছোটখাটো ভুল নেই বললেই চলে। খোকন ছবির গল্প থেকে শুরু করে পোস্টার সব বিষয়ে দর্শকদের চাহিদা পূরণের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতেন যার ফলে খোকনের ছবি মানেই ছিল সেই সময়ে সিনেমা হলে কিশোর তরুন সহ পারিবারিক দর্শকদের ঢল।

মাঝে শহিদুল ইসলাম খোকন রুবেলকে ছাড়া অন্য অভিনেতাকে নিয়ে ‘কমান্ডার’ এবং ‘পালাবি কোথায়’ নামে দুটি সিনেমা নির্মান করেন। দুই সিনেমার বিরতির পর খোকন এবং রুবেল জুটি ফিরে আসেন দুর্দান্ত ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ছবিটি দিয়ে। যা ছিল সেই বছরের সেরা ১০টি ব্যবসাসফল ছবির একটি। ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ছবিটির গল্প অন্য সবগুলো ছবির চেয়ে আলাদা, হুমায়ুন ফরিদিকে কৌতুক ও খল দুই ভাবে উপস্থাপন এবং আলম খানের সুরের একাধিক দুর্দান্ত গান ছিল ছবিটির প্রান। এরপর রুবেল কে নিয়ে ‘ঘাতক’, ‘লম্পট’, ‘নরপিশাচ’ এবং ‘ভণ্ড’ নামক দুটি ছবিতে খোকন, রুবেল ও ফরিদিকে দর্শক পায়।

একটানা চারটি সুপারহিট ও হিট ছবির পর খোকন আবারও রুবেল কে ছাড়া আরেক মার্শাল আর্ট হিরো আলেকজান্ডার বো কে নিয়ে ‘ম্যাডামফুলি’ নামক একটি নারীকেন্দ্রিক ছবি তৈরি করেন যা ছিল চিত্রনায়িকা শিমলার প্রথম ছবি। ‘ম্যাডামফুলি’ ছবিটির গল্প ও শিমলার দুর্দান্ত অভিনয়ের কারনে ছবিটি দর্শকপ্রিয়তা পায়। প্রথম ছবিতেই শিমলা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এই ছবিতে আরও ছিলেন ববিতা, ফরিদি ও শামসুজ্জামান। যেখানে ‘ভণ্ড’ ছবির পর এই ছবিতেও ফরিদি – শামসুজ্জামান এর বেশকিছু কৌতুক রসায়ন ছিল যা দর্শকদের চরম আনন্দ দেয়। এরপর আবার রুবেল, শিমলা, ফরিদি ও শামসুজ্জামান কে নিয়ে আরও একটি রোমান্টিক কমেডি ছবি ‘পাগলা ঘণ্টা ’ নির্মাণ করেন যা দর্শকপ্রিয়তা পায়। এরপর আবারও রুবেল বিহীন খোকন নির্মাণ করেন সেই সময়ের দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চিত্রনায়ক মান্নাকে নিয়ে ‘ভেজা বিড়াল’ ছবিটি। ছবিটির গল্প, নির্মাণ এবং মান্নার অভিনয় সব কিছু ঠিক থাকার পরেও দর্শকপ্রিয়তা পায়নি যার ফলে মান্নাকে নিয়ে আর কোন ছবি তৈরি করেনি খোকন।

উপমহাদেশে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র জগত বলিউড যখনও মার্শাল আর্ট নির্ভর ছবি তৈরি করতে পারেনি সেখানে খোকন একের পর এক মার্শাল আর্ট ভিত্তিক অ্যাকশন ছবি দিয়ে সাফল্য পেয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় বাংলাদেশে মার্শালআর্ট জনপ্রিয় করার পেছনে খোকন এবং রুবেল জুটির অনেক অবদান যা অনস্বীকার্য। খোকনের মতো একজন পরিচালক বলিউড পেলে অনেক দূর এগিয়ে যেতো এবং যথাযথ মূল্যায়ন করতো এটা বলা যায়। অথচ এই খোকন জীবিত থাকাবস্থায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আরও অনেক কিছু দেয়ার ক্ষমতা ছিলো কিন্তু আমরা তা নিতে পারিনি যা আমাদের চিরকালের একটি বদস্বভাবের উদাহরন ছাড়া কিছুই নয়। আমরা গুণীদের সম্মান ও মূল্যায়ন করতে জানিনা তাই তো আমাদের দেশের চলচ্চিত্র শিল্প ৯০ দশকের চলচ্চিত্রের চেয়েও অনেক পিছিয়ে আছে যা দেখলে শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা। আমরা কি পারিনা আবারও একজন শহিদুল ইসলাম খোকনের মতো মেধাবী পরিচালক ও রুবেলের মতো মার্শাল আর্ট হিরো জুটির মাধ্যমে আমাদের প্রিয় চলচ্চিত্র শিল্পকে জাগিয়ে তুলতে?

আরো পড়ুনঃ
লড়াকু নায়ক রুবেল: বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য এক অ্যাকশন হিরো’র গল্প
শহীদুল ইসলাম খোকন: বাংলার সাহসীতম একজন পরিচালকের গল্প

ফজলে এলাহী
বাংলা সিনেমার স্বরূপ সন্ধানে কাজ করে যাওয়া একজন অক্লান্ত যোদ্ধা ফজলে এলাহী। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত তুলে ধরার জন্য নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন তিনি। ফজলে এলাহীকে আমাদের একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে পেয়ে ফিল্মীমাইক শ্লাঘা বোধ করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার এই কাজকে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ