জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হলিউডের কিছু আলোচিত সিনেমা

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

হলিউডের সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্য ইন্ড্রাস্ট্রিগুলো সিনেমা বানায়, এমন একটা ধারণা আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে। ধারণাটি ঠিক ভুলও না। হলিউডের সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমা বানায় না, এমন ইন্ড্রাস্ট্রি খুবই কম। প্রকৃতপক্ষে সকল ইন্ড্রাস্ট্রিতেই বিদেশি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমা বানানোর চল আছে। আছে হলিউডেও। এমনকি হলিউডে বিদেশের অনেক সিনেমা স্রেফ রিমেকও করা হয়। অর্থাৎ গল্প এক রেখে লোকেশন-চরিত্র-ভাষা বদলে দেয়া। যে রকম কেয়ামত সে কেয়ামত তাক থেকে বানানো হয়েছিল কেয়ামত থেকে কেয়ামত। অনেক রিমেক বানানোর সময় মূল সিনেমার পরিচালককেও বিভিন্ন ভাবে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্তও করা হয়েছে। হলিউডে এরকম রিমেক করা হয়েছে অনেক জাপানি সিনেমাও। অনেক বিখ্যাত জাপানি সিনেমার যেমন হলিউডি রিমেক বানানো হয়েছে, তেমনি অনেক বিখ্যাত হলিউডি সিনেমাও আসলে কোনো জাপানি সিনেমার রিমেক।

- Advertisement -

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

গোজিরা থেকে গডজিলা
গডজিলা বলে যে বিশাল ডাইনোসর আকৃতির দানবকে আমরা চিনি, তার জাপানিজ নাম গোজিরা। শব্দটা জাপানি গরিলা আর হাঙর শব্দ দুইটির মিশ্রণ। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া জাপানি গোজিরা নাকি দেখতেও গরিলা আর হাঙরের মিশ্রিত রূপেরই হওয়ার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত গোজিরা হয়ে যায় ডাইনোসরের মতো। আর দুই বছরের মাথায় সিনেমাটি রিমেক হয় হলিউডে, গডজিলা: কিং অফ দ্য মনস্টার্স নামে। জাপান থেকে সিনেমাটির পরিচালককেও উড়িয়ে আনা হয়। কাহিনিতে পরিবর্তন বলতে কেবল এক মার্কিন সাংবাদিকের অন্তর্ভুক্তি। এর প্রায় চার দশক পরে আবারও ঘটা করে গডজিলা বানানো হয়। এবার বাজেট যেমন বেড়ে যায়, তেমনি কাহিনিও টোকিও থেকে চলে আসে নিউ ইয়র্কে। আগের লো-টেক ইফেক্ট আর রাবারের স্যুট পরা গডজিলার বদলে এবারের সিজিআই ইফেক্টের গডজিলা সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

- Advertisement -

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

কুরোশাওয়ার সেভেন সামুরাই
আকিরা কুরোশাওয়ার অন্যতম বিখ্যাত সিনেমা সেভেন সামুরাই। সিনেমাটিতে কুরোশাওয়া পুরো দুনিয়াকেই এক নতুন তত্ত্ব শেখালেন— নায়কদেরও দল হতে পারে। পরে যে ফর্মুলায় বানানো হয়েছে দ্য গানস অফ নাভারুন, ওশেন সিরিজ থেকে শুরু করে অজস্র সিনেমা। এই সিনেমাটি হলিউডে রিমেক করা হবে, তা তো খুবই স্বাভাবিক। ১৯৬০ সালে সিনেমাটির হলিউড ভার্সন মুক্তি পায় দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট সেভেন নামে। জাপানি সামুরাই ভিত্তিক সিনেমাটি অবশ্য হলিউডে এসে ওয়েস্টার্ন হয়ে যায়। তবে সাতজনের দুইটি দলেই একজন প্রবীণ নেতা ছিল। ছিল একটি করে খ্যাপাটে চরিত্রও। পরে ২০১৬ সালে এসে সেই একই নামে হলিউডি সিনেমাটিরও আবার একটি হলিউডি রিমেক বানানো হয়।

- Advertisement -

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

ডলার ট্রিলজিতেও কুরোশাওয়া
সামুরাই-ভিত্তিক ‍কুরোশাওয়ার আরেক বিখ্যাত সিনেমা ইয়োজিম্বো। সিনেমাটিতে নায়ক সানজুরো গ্রামটির প্রতিদ্বন্দ্বি দুই সেনাপতির পক্ষেই কাজ করে। সিনেমাটির এই চরিত্র, এবং কাহিনির আরও বেশ কিছু অংশ গ্রহণ করেন বিখ্যাত ইতালিয়ান পরিচালক সার্জিও লিওন। গ্রহণ করেন তার বিখ্যাত ডলার ট্রিলজির প্রথম সিনেমা এ ফিস্টফুল অফ ডলার্স-এ। ওয়েস্টার্ন ঘরানার রাজত্ব নির্ণায়ক এই সিনেমাটির ম্যান উইথ নো নেম চরিত্রটির সঙ্গে কুরোশাওয়ার ইয়োজিম্বো-র সানজুরো চরিত্রটির মিল বিশেষভাবেই লক্ষণীয়।

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

শ্যাল উই ড্যান্স?
মাসাউকি সুয়ো-র কমেডি-ড্রামা শ্যাল উই ড্যান্স? মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। পিটার চেলসন একই নামের সিনেমাটির হলিউডে রিমেক বানান ২০০৪ সালে। তবে জাপানি সিনেমাটির যে আবেদন ছিল, হলিউডি রিমেকে আর তেমন থাকেনি। তার কারণও অবশ্য আছে। সিনেমাটিতে এক স্ত্রী তার স্বামীর পেছনে গোয়েন্দা লাগায়। তার সন্দেহ, স্বামী অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে অন্য কিছু। তার স্বামী লুকিয়ে লুকিয়ে ওয়েস্টার্ন নাচ শিখছে। যেটা জাপানে খুবই নিন্দনীয় এবং বিব্রতকর। কিন্তু তা আমেরিকার প্রেক্ষাপটে তো বটেই, পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজেই অত্যন্ত স্বাভাবিক। স্বাভাবিকভাবেই তাই হলিউডি রিমেকে কাহিনি একেবারেই গড়পরতা হয়ে গেছে।

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

কুকুর বাঁচানোর গল্প
১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় জাপানি সিনেমা অ্যান্টার্কটিকা। সিনেমাটি বেশ ব্যবসাসফলও হয়। সিনেমাটি বানানো হয়েছিল এক সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এক বার এক দল জাপানি অভিযাত্রী যায় অ্যান্টার্কটিকায়। লক্ষ্য দক্ষিণ মেরু। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার জন্য তাদের ফিরে আসতে হয়। ফেলে আসতে হয় কতগুলো কুকুরকে। ১১ মাস পরে দলটি আবার গিয়ে দেখে, কুকুরগুলো তখনও বেঁচে আছে। এই কাহিনি নিয়েই পরে বানানো হয় অ্যান্টার্কটিকা। এর ২৩ বছর পর ডিজনি সিনেমাটি রিমেক করে এইট বেলো নামে। ডিজনি অবশ্য তাদের স্বভাবসুলভ কিছু পরিবর্তন করে। তারা পঞ্চাশের দশকের এই কাহিনিকে নিয়ে আসে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে। আর কুকুরের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ৩ গুণ।

জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

রিঙ্গু থেকে দ্য রিং
১৯৯৮ সালে জাপানে মুক্তি পায় রিঙ্গু। সিনেমাটি দিয়ে জাপানে এক নতুন ধরনের হরর সিনেমার জনরার প্রবর্তন হয়। সাধারণভাবে যেগুলোকে বলা হয় জে-হরর। রিঙ্গুর সাফল্যে এরপর একের পর এক জে-হরর বানানো হতে থাকে। সিনেমাগুলো সাফল্যও পেতে থাকে। রিঙ্গু-র দুটো সিক্যুয়াল আর একটা প্রিক্যুয়ালও বানানো হয়। ২০০২ সালে হলিউডে সিনেমাটির রিমেক বানানো হয় দ্য রিং নামে। হলিউডের সিনেমাটির সিক্যুয়াল বানানোর সময় এমনকি ডেকে নেয়া হয় জাপানি সিনেমাটির পরিচালক হিদেও নাকাতা-কে। শুধু তাই না, রিঙ্গু মুক্তি পাওয়ার পর জাপানে যে সব জে-হরর সাফল্যের মুখ দেখেছিল, প্রায় সবগুলোই হলিউডে রিমেক করা হয়।

প্রিয় পাঠক, উপরে উল্লেখিত জাপানি সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হলিউডের আলোচিত সিনেমাগুলোর মধ্যে কোন সিনেমাটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জানিয়ে দিন আমাদের মন্তব্যে। এছাড়া এই তালিকার বাইরে কোন সিনেমা আপনার জানা থাকলে সেটাও জানিয়ে দিতে পারেন আমাদের।

আরো পড়ুনঃ
বলিউডে রিমেক সিনেমা: ফরাসি গল্প থেকে বলিউডে নির্মিত ১১টি সিনেমা
ডিসি এবং মার্বেল কমিক্সের যে চরিত্রগুলো বিশেষত্বের দিক থেকে অভিন্ন!  

নাবীল অনুসূর্য
জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্কুলের পাঠ চুকিয়েছেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে, ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে কলেজের পাঠ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ফিচার-সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফেলোশিপ নিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপর একটি গবেষণার কাজ করছেন। গবেষণার বিষয় আমাদের চলচ্চিত্রে ’৫২-র উপস্থাপন: অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা। এছাড়াও ফ্রি-ল্যান্সিং লেখালেখি করছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে ও অন্যান্য মাধ্যমে।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ