রুবেল এবং আমিন খান: সময়ের আগেই হারিয়ে যাওয়া দুই তারকা

রুবেল এবং আমিন খান

চিত্রনায়ক রুবেল যাকে আমরা ‘কংফু নায়ক’ হিসেবে ডাকতাম তিনি হলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সেই নায়ক যিনি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ১২টি বছরের অভিনীত কোন ফ্লপ ছবি উপহার দেন নাই। রুবেল হচ্ছেন সেই নায়ক যার যে ছবিটা সবচেয়ে কম ব্যবসা করেছে সেটাও পুঁজি ফেরত পেয়েছে এবং যা অন্য কোন নায়কের নেই। এমনকি চলচ্চিত্রে সালমান সানি’র মতো নতুন নায়কদের দাপটে যুগেও রুবেল ছিলেন অনন্য যার সেইসময়ে কোন ফ্লপ ছবি ছিল না। রুবেল কি পরিমান সুপারহিট ছবি দিয়েছেন তা দেশ সেরা পরিচালকদের অন্যতম শহিদুল ইসলাম খোকনের ২৫ টি সুপারহিট ছবির তালিকা দেখলেই বুঝতে পারবেন যার প্রায় সবগুলোই রুবেল অভিনীত। শুধু শহিদুল ইসলাম খোকন নন এ জে রানা, আবুল খায়ের বুলবুল, রানা নাসের, কমল সরকার, আহমেদ সাত্তারের মতো তরুণ পরিচালকদের যত হিট সুপারহিট ছবি আছে সেগুলোও রুবেলের।

- Advertisement -

সালমান-সানির যুগে সালমান-সানিরা যা পারেননি সেটা রুবেল করে দেখিয়েছিলেন অর্থাৎ কিছু পরিচালক ছিলেন একমাত্র রুবেল কেন্দ্রিক ছবি নির্মাণ করতেন যার বিপরীতে কাজী হায়াত ও মমতাজুর রহমান মান্না’কে দাড় করান। শহিদুল ইসলাম খোকনের লড়াকু, বীরপুরুষ, বিপ্লব, বজ্রমুষ্টি, উত্থান পতন, বিষদাঁত, অকর্মা, অপহরণ, সতর্ক শয়তান, বিশ্বপ্রেমিক, ঘাতক, লম্পট, ভণ্ড, রাক্ষস, পাগলাঘণ্টা, যোদ্ধা যেমন সুপারহিট তেমনি এ জে রানা’র মহাগুরু, মূর্খমানব, ডন, আজকের হিটলার, মানুষ এবং কমল সরকারের মিথ্যার রাজা, বিপদ সংকেত ছবিগুলোও হিট। শুধু তাই নয় রুবেলকে নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফজল আহেমদ বেনজির, ফজলে হক, শিবলি সাদিক, এম এ মালেক, এম এম সরকার, মালেক আফসারি এর মতো প্রবীণ পরিচালকরাও সফল হয়েছিলেন। রুবেল সম্ভবত সেই সময় শুধু এ জে মিন্টু, আমজাদ হোসেন, আজিজুর রহমান, সুভাষ দত্তের মতো পরিচালকদের ছবিতে অভিনয় করেননি আর করার কথাও না, কারণ উনাদের ছবিগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের।

এই রুবেল যেখানে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সামাজিক অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করতেন এবং রুবেল বলতেই আমরা বুঝতাম অ্যাকশন ধাঁচের ছবি সেই রুবেল সোহানুর রহমান সোহানের অফিসিয়াল রিমেক ‘স্বজন’ নামের মিউজিক্যাল রোমান্টিক ছবিতে অভিনয় করলেন তাও আবার বলিউডের সালমান খানের চরিত্রে। সেই ছবিতে রুবেলের ঠোঁটে ‘আমার ইচ্ছে করে কাছে যাই, তোমায় আরও কাছে পাই প্রিয়’ গানটি সেইসময়ের তরুণ দর্শকদের দারুন লেগেছিল। পুরো ছবিতে ত্রিভুজ প্রেমের টানাপোড়েন, নেই রুবেলের সেই মারমার কাটকাট কংফু অ্যাকশন তবুও ছবি সুপার বাম্পার হিট হয়ে গেলো। কারণ একটাই কাঞ্চন মৌসুমির পাশে অ্যাকশনবিহীন রুবেলকে দর্শকদের খারাপ লাগেনি। রুবেলের অন্ধ ভক্তরাও ছবিটিকে লুফে নিলেন।

- Advertisement -

রুবেলের ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রে ভক্তরা খুশী। একই ভাবে সিদ্দিক জামাল নানটু’র ত্রিভুজ প্রেমের ছবি ‘ভাংচুর’ ছবিতেও রুবেল সফল। সফল হলেন শহিদুল ইসলাম খোকনের রোমান্টিক, কমেডি, থ্রিলার ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘ভণ্ড’ ছবিতেও। এই যে নিজেকে একটা চেনা স্টাইল/ঘরনা থেকে পরিবর্তন করে আরেক ঘরনায় রুবেল নিয়ে গেলেন তাতে করে রুবেলের ‘কংফু অ্যাকশন’ ছবির জনপ্রিয়তায় কি ভাটা পড়েছিল? একদমই না বরং রুবেল নিজেকে প্রমাণ করলেন যে অ্যাকশন ধাঁচের ছবি ছাড়াও রুবেল সফল হতে পারেন। এই রুবেল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়ে জসিম, কাঞ্চন, আলমগীর, মান্না, ওমর সানী’র মতো স্টারদের সাথে একই ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন।

রুবেল যে সময়ে চলচ্চিত্রে আসেন তখন আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম, ইলিয়াস কাঞ্চন, জাফর ইকবাল এর মতো তারকারা বেশ ভালোভাবেই ইন্ডাস্ট্রির ও দর্শকদের চাহিদা মেটাচ্ছিলেন তবুও রুবেল নিজের নিজস্ব একটা ধারায় নিজেকে একক ভাবে জনপ্রিয় করেছিলেন তবুও কেন রুবেল’কে রোমান্টিক ধারায় আসতে হলো এই প্রশ্নটা কি আপনাদের মনে আসেনা? কারণ রুবেল নিজের যোগ্যতা ও সময়ের নতুন দর্শকদের কাছে নিজেকে প্রমাণের জন্য নিজের জনপ্রিয় ধারা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন আর তাই আজো সেদিনের রুবেল ভক্তরা রুবেল মারমার কাটকাট ছবির সাথে ‘ অপহরণ’, ‘ঘৃণা’, ‘স্বজন’, ‘ভাংচুর’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘রাক্ষস’, ‘ভণ্ড’, ‘পাগলাঘণ্টা’র মতো ছবিগুলোর কথা বলে ও আগামীতেও বলবে। শুধু তাই নয় রুবেল সেই সময়ের জনপ্রিয় তারকাদের সাথে একই ছবিতে সহ-অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেন এবং নিজের অভিনয় দক্ষতাকে আরও উন্নত করেন।

- Advertisement -

ফজল আহমেদ বেনজিরের ‘ওমর আকবর’ ছবিতে ওমর চরিত্রে জসিমের দাপট কিন্তু আকবর চরিত্রে রুবেল ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, শিবলি সাদিকের ‘অর্জন’ ছবিতে আলমগিরের পাশে রুবেল নিজেকে চিনিয়েছিলেন, মা মাটি দেশ ছবিতে কাঞ্চন প্রধান চরিত্রে অথচ রুবেল ঠিকই তার অবস্থানে নিজেকে চিনিয়েছিলেন, ফজলে হকের ‘সম্পর্ক’ ছবিতে জসিমের দাপটের পাশেও রুবেল এতটুকু ম্লান হয়ে যাননি। সোহানুর রহমান সোহানের ‘আখেরি রাস্তা’ ছবিতে রুবেল ছিলেন ছবির প্রান অথচ সেই রুবেলই ছবির শেষে মারা যান যার ফলে রুবেলের চরিত্রটিকে দর্শক আরও বেশী মনে রেখেছে আজো। সেই সময়ে রুবেলের মতো জনপ্রিয় তারকা এসব কেন করেছিলেন সেটা বুঝতে হবে, শিখতে হবে। একই ধারায়, একই ধাঁচে বারবার দর্শকদের সামনে এসে সস্তা জনপ্রিয়তা ধরে রাখার মাঝে কোন বাহবা নেই, কোন কৃতিত্ব নেই।

এই ক্ষেত্রে আরেকটা উদাহরণ না দিয়ে পারছি না সেটা হলো পারিবারিক সেন্টিমেন্টাল ও রোমান্টিক গল্পের সফল ও তুমুল জনপ্রিয় নায়ক আলমগির কেন ‘ক্ষতিপূরণ’ এর মতো ব্যতিক্রমধর্মী ছবি করতে রাজি হলেন বলতে পারবেন? ‘ক্ষতিপূরণ’ হচ্ছে এমন একটি গল্পের ছবি যেখানে পারিবারিক সেন্টিমেন্ট, নায়িকার সাথে প্রেম রোমান্স কিছুই নেই অথচ আলমগির সহজে ছবিতে অভিনয় করার চ্যালেঞ্জ নিলেন এবং সফলও হলেন। ক্ষতিপূরণ ছবির গল্পে আলমগিরের চরিত্রটা এমনই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে আলমগির ব্যর্থ হওয়া মানে পুরা ছবি সুপার ফ্লপ হয়ে যাবে। অথচ সেই চরিত্রটা আলমগির এতো দারুন ভাবে সামলেছেন এবং সফল হয়েছেন যা তাঁকে শুধু দর্শকনন্দিত করেনি করেছে সমালোচক বোদ্ধা নন্দিতও। যে ছবির কারণে তিনি সত্য মিথ্যা, রাঙ্গাভাবি, ব্যথারদান এর মতো ছবিগুলোকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। ‘ক্ষতিপূরণ’ ছবির মতো বাণিজ্যিক ছবি সব অভিনেতা সবসময় পায় না এবং আলমগির সেই অভাবনীয় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জটাকে গ্রহণ করেছিলেন।

এটাই একজন সফল অভিনেতার গুন। অথচ আজকের শুন্য ইন্ডাস্ট্রির একনায়কতন্ত্রের কিং খান নামের শাকিব খান সেই একই ধাঁচে বারবার পর্দায় আসছেন আর তার চাটুকাররাও তাঁকে বাহবা দিচ্ছেন যা একজন শিল্পীকে মনে রাখার মতো কিছুই না করার জন্য উৎসাহ দেয়া। শাকিবের ভক্তরা বলে শাকিব নাকি একাই চলচ্চিত্র টিকিয়ে রেখেছে, আরে ভাই যেখানে কেউই নেই সেখানে একজন যা দিবে সেটাই দর্শক খাবে এর মধ্যে বাহবা পাওয়ার কিছু নেই। শাকিব যদি তার অনুজদের গুরুত্ব দিয়ে একই ছবিতে অভিনয় করতেন তাহলে নতুন নায়করাও অনেক কিছু শিখতে পারতেন কিন্তু শাকিব ও তার ভক্তরা মনে করেন এতে শাকিবের ভ্যালু কমে যাবে, আরে ভাই যার ভ্যালুই নাই তার আবার ভ্যালু বাড়া বা কমার প্রশ্ন আসে কেন? ভ্যালু তার থাকে যে সমসাময়িক আরও ১০ জনের সাথে টেক্কা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। যেখানে প্রতিযোগিতাই নেই, একজনই সব সেখানে যোগ্যতার মাপকাঠি নেই।

এবার আসি আমিন খানের প্রসঙ্গে। আমিন খান হলেন আমার দেখা সবচেয়ে দুর্ভাগ্য নায়ক যার নায়কোচিত সবকিছু আছে এখনও কিন্তু তাঁকে পরিচালকরা ঠিক মতো ব্যবহার বা কাজে লাগিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে প্রতিযোগিতামূলক ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারেন। আমিন খানের শুরুর দিকের ছবিগুলো যারা সিনেমা হলের পর্দায় দেখেছিলেন তাঁরা নিশ্চয়ই মানবেন যে সেরা যুগে পাওয়া আমিন খান একজন দুর্ভাগা ছাড়া কিছুই নয়। আমিন খানের পর্দায় লুকটা এতো দারুন ছিল যে তাঁকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে রোমান্টিক, সামাজিক অ্যাকশন সব ধারাতেই দারুন মানানসই একজন নায়ক বাংলাদেশে আজো থাকতো সেখানে শাকিব খানের একনায়কতন্ত্র বা সিন্ডিকেটে সবাইকে জিম্মি করতে পারতেন না। আমিন খানকে সালমান-সানির যুগে দিলিপ বিশ্বাস ‘হৃদয় আমার‘ ও ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’, আজিজ আহমেদ বাবুল ‘দোস্ত আমার দুশমন’, বাদল খন্দকার ‘দুনিয়ার বাদশা’, ‘ বিশ্বনেত্রী’ এবং এরপর এফ আই মানিক ‘হৃদয়ের বন্ধন’, ‘ফুল নিবে না অশ্রু নিবে’ ছবিগুলোতে বেশ ভালো ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু সালমানের মৃত্যু, ওমর সানির বিদায়ের ফলে সেটা যথার্থ ছিল না যার ফলে আমিন খান বেশকিছু অশ্লীল ছবি করে নিজের মানটা কমিয়ে ফেলেন অথচ রিয়াজের সাথে রোমান্টিক ধাঁচের ছবিতে আমিন খান’কে তৈরি করতে পারতেন যা হয়নি ফলে ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে নায়ক ওমর সানির ব্যাপারে কিছু কথা না বললেই নয়। ওমর সানী হলেন আমার দেখা সবচেয়ে বেকুব নায়ক যিনি হতে পারতেন ইন্ডাস্ট্রির ১নং তারকা তিনি হয়ে গেলেন সময়ের আগেই হারিয়ে যাওয়া এক দুর্ভাগা নায়ক যার পেছনে দায়ী ব্যক্তি ওমর সানির অসচেতনতা ও ভক্ত নামের কিছু চাটুকার’রা। ৯০’র দশকের শুরুর দিকে নতুনদের জোয়ারে আগত যেকজন তরুণ নিজেদের আলাদা বলয় গড়ে তুলতে পেরেছিলেন সানী হলেন তাঁদের অন্যতম। নুর হোসেন বলাইয়ের ‘এই নিয়ে সংসার’ ছবি দিয়ে সহনায়ক হিসেবে পর্দায় যার আগমন (প্রথম চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ‘চাঁদের আলো’ ছবিতে) এরপর ২য় মুক্তিপ্রাপ্ত শেখ নজরুল ইসলামের সুপারহিট রোমান্টিক ছবি ‘চাঁদের আলো’ দিয়ে নিজেকে একক নায়ক হিসেবে প্রমাণ করেন সানী যার ফলে সালমান শাহ চলচ্চিত্রে আসার পর সালমানের সমসাময়িক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সানী হয়ে উঠেন প্রযোজক পরিচালকদের ভরসার পাত্র।

সেই সময় সানী একক নায়ক হিসেবেও যেমন পর্দায় সফল ভাবে এসেছিলেন ঠিক তেমনি কাঞ্চন, জসিম, আলমগীর, রুবেলের সাথেও সহনায়ক হিসেবেও পর্দায় এসেছিলেন এবং নিজেকে রোমান্টিক ও সামাজিক অ্যাকশন দুই ধারাতেই সফল ভাবে প্রমাণ করেন। সালমানের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর যে সানী হতে পারতেন সালমানের রোমান্টিক ছবিগুলোর বিকল্প সেই সময় সানির অস্বাভাবিক মুটিয়ে যাওয়া তাঁকে চলচ্চিত্র থেকে বিদায় করতে বাধ্য করে। সালমানের মৃত্যুর পর শাবনুরের সাথে ওয়াকিল আহেমদ এর ‘অধিকার চাই’, মমতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ সুপারহিট হলেও মুটিয়ে যাওয়া সানির সাথে মৌসুমী অভিনীত সোহানুর রহমান সোহানের ‘শান্তি চাই’, শাবনূরের সাথে উত্তম আকাশের ‘কে অপরাধী’, মৌসুমীর সাথে উত্তম আকাশের ‘রঙিন রংবাজ’, শাবনূরের সাথে বাদল খন্দকারের ‘মধুর মিলন’ ছবিগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে, এমনকি মৌসুমির সাথে এ জে মিন্টু’র দারুন গল্পের ছবি ‘বাপের টাকা’ও ব্যর্থ হয় যার ফলে সানিকে নিয়ে আর কোন আশা ভরসা রইলো না। যে ভক্তরা সানির চাটুকারিতা করতো তারাও ব্যর্থ মোটাসোটা সানিকে ভুলে গেলো। নির্মাতারা রোমান্টিক ছবির জন্য রিয়াজ ও সামাজিক অ্যাকশন ছবির জন্য মান্না’কেই বেছে নিলেন তাঁদের সেইসময়কার অভাবনীয় ব্যবসায়িক ছবিগুলোর সাফল্যর কারণে। একজন জনপ্রিয় তারকার অসচেতনতা ও ভক্তদের চাটুকারিতা কি পরিমাণে ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে পারে ওমর সানী হলেন তার জলজ্যান্ত উদাহরন।

শুরু করেছিলাম রুবেলকে নিয়ে যে রুবেলের একটি দারুন রেকর্ড আছে যা আজকের শাকিব খানেরও নেই। সেই রুবেল অসচেতনতা, ভুল সিদ্ধান্তের জন্য সময় থাকতেই হারিয়ে গেলেন আর তারকা শুন্য ইন্ডাস্ট্রিতে আজকের তথাকথিত ‘কিং খান’ শাকিব খান যদি আজো সচেতন না হোন আর তাঁর অন্ধভক্ত নামের চাটুকার’রা যদি না বুঝে তাহলে শাকিব খান সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বেশী সময় লাগবে না। আমরা যাদের আজো মনে করি তাঁদের মনে করার কারণ একটাই তা হলো তাঁরা সবাই ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সোনালি সময়ের তারকা যারা সমসাময়িক একাধিক মেধাবিদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের আলাদা ভাবে চিনিয়েছিলেন এই কারনেই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ও লক্ষ কোটি দর্শকদের হৃদয়ে তাঁদের নাম চিরদিনের জন্য স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়ে গেছে।

আরো পড়ুনঃ
স্মৃতিতে সালমান শাহ ও ওমর সানিঃ সোনালী সময়ে তাদের লড়াইয়ের দিনগুলো
লড়াকু নায়ক রুবেল: বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য এক অ্যাকশন হিরো’র গল্প

ফজলে এলাহী
বাংলা সিনেমার স্বরূপ সন্ধানে কাজ করে যাওয়া একজন অক্লান্ত যোদ্ধা ফজলে এলাহী। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত তুলে ধরার জন্য নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন তিনি। ফজলে এলাহীকে আমাদের একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে পেয়ে ফিল্মীমাইক শ্লাঘা বোধ করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার এই কাজকে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -
- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ