বন্ড নয় বন্ড গার্ল: ০০৭ এজেন্টদের সেরা কিছু নারী সঙ্গীর গল্প!

জেমস বন্ড ০০৭। পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ফিল্ম-ফ্র্যাঞ্চাইজি। যাকে বলে বইয়ের সিরিজ থেকে সিনেমার ফ্র্যাঞ্চাইজি বানানোর এক ক্ল্যাসিক উদাহরণ। জেমস বন্ড কেবল সফল ফিল্ম ফ্র্যাঞ্চাইজির কেন্দ্রীয় চরিত্রই নয়, বরং গত কয়েক দশক ধরে পৌরুষের মাপকাঠিই হয়ে উঠেছে। যে পুরুষ যত বেশি বন্ডের মতো, সে যেন তত বেশি পৌরুষদীপ্ত, বিষয়টা অনেকটা এমনই হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বন্ডের সেই প্রভাব কমলেও, প্রতাপ এখনও কমেনি। আর কমেনি বন্ড গার্লদের আকর্ষণ।

বন্ড যখন পৌরুষের উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল, স্বাভাবিকভাবেই বিপরীতে বন্ড গার্ল হয়ে উঠছিল আইকনিক সেক্স সিম্বল। তাই প্লেবয়ের কাভারের মতোই বন্ড গার্ল হতে পারাটাও সুতন্বী অভিনেত্রীদের জন্য পরম আকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে। আর রূপালি পর্দায় বন্ড গার্লদের আকর্ষণীয় উপস্থিতি দর্শকদের মনেও মনোরম দোলা দিয়ে যায় অবিরাম।

- Advertisement -

এ পর্যন্ত বন্ড সিরিজের মোট ২৬টা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। তাতে বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৭ জন। আর বন্ড গার্লের দেখা মিলেছে অজস্র। এদের কেউ বন্ডের সহযোগী, কেউ শত্রু, কেউ বা আবার স্রেফ আই-ক্যান্ডি। খানিকটা প্লেবয় চরিত্রের জেমস বন্ডের অসংখ্য সঙ্গিনীর মধ্যে থেকে বাছাই করা সেরা সঙ্গিনীদের গল্পই থাকছে আজ।

বন্ড নয়, বন্ড গার্ল

- Advertisement -

উর্সুলা আন্দ্রেস (হানি রাইডার; ড. নো)
বন্ড গার্লদের মধ্যে একটি কারণে উর্সুলা আন্দ্রেস অনন্য। কারণ তিনি প্রথম বন্ড সিনেমাতেই বন্ড গার্ল হিসেবে আবির্ভূত হন। এবং ঠিক করে দেন বন্ড গার্লের সংজ্ঞা-বৈশিষ্ট্য। এবং সেগুলো বলতে গেলে বন্ড গার্ল হিসেবে তার প্রথম দৃশ্যতেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সাগর থেকে বিকিনি পরিহিতা উর্সুলার উঠে আসার দৃশ্যটা ইংল্যান্ডের মূল ধারার সিনেমাতে বিকিনি পরা দৃশ্যেরই প্রথম উদাহরণগুলোর একটি। দৃশ্যটাকে অনেকেই সফট-কোর পর্নোগ্রাফিক দৃশ্য বলতে চাইলেও, দৃশ্যটি কিন্তু সর্বকালের সেরা বা ধ্রুপদী আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোর মধ্যে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে। ড. নো-তে অভিনয় করা এই বন্ড গার্লকে পরে আমন্ত্রণ করে এনে অভিনয় করানো হয়েছে ক্যাসিনো রয়েল-এও।

বন্ড নয়, বন্ড গার্ল

শার্লি ইটন (জিল মাস্টার্সন; গোল্ডফিঙ্গার)
শার্লি ইটন যতটা বিখ্যাত, তার বন্ড গার্ল চরিত্র জিল মাস্টার্সন তারচেয়ে কম বিখ্যাত না। এই জিল বন্ডের বিখ্যাত শত্রু গোল্ডফিঙ্গারের প্রথম শিকার। সে জিলকে হত্যা করে তার মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সোনালি রং করে দেয়। গোল্ডফিঙ্গার নামের বন্ড সিরিজের এই সিনেমাতে অভিনয় করাটা শার্লির ক্যারিয়ারের জন্য বেশ খালোই হয়েছিল। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই বিয়ে করে ‍তিনি অভিনয় কমিয়ে দেন। আর দুই সন্তানের মা হয়ে তিনি অভিনয় ছেড়েই দেন। ভালো ক্যায়িারের চেয়ে ভালো মা হওয়াটাই তার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে দেখা দেয়।

বন্ড নয়, বন্ড গার্ল

ডায়ানা রিগ (ট্রেসি বন্ড; অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস)
ডায়ানা রিগ অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস সিনেমাতে ট্রেসি বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেন। এবং এটিই একমাত্র বন্ড গার্ল চরিত্র যাকে বন্ড বিয়ে করে। অবশ্য তাদের সে বিয়ে টেকেনি। বনে্‌ডর শত্রু ব্লেফোল্ডের হাতে তার মৃত্যু হয়। সে জন্যই হয়তো এরপরে যত বারই বিয়ের প্রসঙ্গ এসেছে, বন্ড কখনোই রাজি হয়নি। ডায়ানা রিগ যখন বন্ড গার্ল হিসেবে নির্বাচিত হন, ততদিনে তিনি বেশ প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন। এখন অবসর নিলেও, টুকটাক অভিনয় ঠিকই করছেন। এমনকি গেম অফ থ্রোনস-এও তিনি বুড়ি ওলেনা টাইরেল চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

বন্ড নয়, বন্ড গার্ল

ফ্যামকে জ্যানসেন (জেনিয়া ওনাটোপ; গোল্ডেনআই)
জেনিয়া ওনাটোপ চরিত্রটি গোল্ডেনআই সিনেমার। সে একজন রাশান সুতন্বী পাইলট। অর্থাৎ বন্ডের শত্রু, এবং নিয়ম মাফিক তারা পরস্পর আকর্ষিত হয়। তবে বন্ড সিরিজের আর সব খলনায়িকা চরিত্রের চেয়ে এক জায়গায় ওনাটোপ আলাদা। সে খুন করার মধ্যে এক ধরনের যৌনতৃপ্তি পায়। চরিত্রটিতে অভিনয় করেন ফ্যামকে জ্যানসন। পরে তিনি এক্স-ম্যান সিরিজ, টেকেন, হ্যান্সেল এন্ড গ্রেটলে: উইচ হান্টার্স-এর মতো আরও বেশ কিছু মারদাঙ্গা সিনেমায় অভিনয় করেন।

বারবারা বাখ (আনিয়া আমাসোভা; দ্য স্পাই হু লাভড মি)
বন্ড সিরিজে বারবার এসেছে আকর্ষণীয়া রাশান কেজিবি এজেন্ট। দ্য স্পাই হু লাভড মি সিনেমাটিতে এমনি এক চরিত্র আনিয়া আসামোভা। আর সে চরিত্রে অভিনয় করেন বারবারা বাখ। তখন তিনি তার অভিনয় ক্যারিয়ারের মধ্য গগনে। বন্ড সিরিজে অভিনয় করা তাই তার ক্যারিয়ারে তেমন প্রভাব ফেলেনি। বরং প্রভাব ফেলে দ্য ক্যাভম্যান সিনেমাটি। এই সিনেমার সেটেই ১৯৮০ সালে তার সঙ্গে পরিচয় হয় বিটলস তারকা রিঙ্গো স্টারের। পরে তার বিয়ে করে দুজনে মিলে বিশ্ব ঘুরে গান গেয়ে বেড়ান।

সোফি মার্সিউ (ইলেক্ট্রা কিং; দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ)
দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ সিনেমার দুই প্রধান খলচরিত্রের একটি ইলেক্ট্রা কিং। অন্যান্য খলনায়িকাদের মতোই তারও মূল লক্ষ্য, বন্ডকে বিছানায় ব্যস্ত রেখে রহস্য থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখা। চরিত্রটিতে অভিনয় করেন সোফি মার্সিউ। এর আগেই তিনি বেশ কিছু ফ্রেঞ্চ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছিলেন ব্রেভ হার্ট-এর মতো সিনেমাতেও। পরেও ভালোই করছিলেন। হঠাৎই তার মনে হল, শুধু অভিনয় করে জুত হচ্ছে না। আত্মজীবনী লিখতে বসলেন। তারপরই চলে আসেন পরিচালনায়।

ড্যানিয়েলা বিয়াঞ্চি (তাতিয়ানা রমানোভা; ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ)
ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ সিনেমায় রাশান আকর্ষণীয়া এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেন ড্যানিয়েলা। তাতিয়ানা চরিত্রের কাজ ছিল বন্ডকে তার প্রেমে ফেলে কর্তব্যচ্যূত করা। কিন্তু বরাবরের মতোই উল্টোটাই ঘটে। তাতিয়ানাই বন্ডের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে যায়। সিনেমাটি ছিল ড্যানিয়েলার প্রথম সিনেমা। আর সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা হিসেবে কাজ করেছিল সৌন্দর্য্য আর সুতন্বী দেহবল্লরী। কাজেই পরবর্তীতে আর তেমন সুবিধা করতে পারেননি এই বন্ড গার্ল। উল্টো বেশ কিছু বি-গ্রেডের সিনেমায় কাজ করেন তিনি, যার কয়েকটি আবার ছিল জেমস বন্ড স্পুফ ‍ফিল্ম। পরে ১৯৭০ সালে এক ধনকুবেরকে বিয়ে করে তার অভিনয় জীবনের সংগ্রামের ইতি টানেন তিনি।

মিশেল ইয়োহ (ওয়ে লিন; টুমরো নেভার ডাইস)
মিশেল ইয়োহ বন্ড গার্ল হিসেবে অভিনয় করেন পিয়ার্স ব্রসনানের বিপরীতে, টুমরো নেভার ডাইস-এ। চরিত্রটি ছিল এক চীনা এজেন্টের, যে স্বাভাবিকভাবেই মার্শাল আর্টস স্পেশালিস্টও। বন্ড গার্ল হওয়ার আগেই তিনি অভিনেত্রী হিসেবে বেশ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। বন্ড গার্ল হয়ে তিনি ক্যারিয়ার আরও গুছিয়ে নেন। পরে অভিনয় করেন ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন, সানশাইন, ব্যাবিলন এ.ডি.-র মতো সিনেমায়। সম্প্রতি অবশ্য তিনি অভিনয়ের চেয়ে বেশি মনোযোগী হয়েছেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। কাজ করছেন দক্ষিণ চীনের বাঘ সংরক্ষণে। পরে ভিয়েতনাম ভিত্তিক এশিয়ান ইনজুরি প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন-র সাথেও যুক্ত হয়েছেন। ইদানিং শুরু করেছেন তার আরেক ভালোবাসা মোটর স্পোর্টসও।

হ্যালি বেরি (জিংক্স জনসন; ডাই অ্যানাদার ডে)
হলিউডের অন্যতম আকর্ষণীয়া কৃষ্ণাঙ্গী অভিনেত্রী হিসেবে ধরা হয় হ্যালি বেরিকে। ২০০২ সালে বন্ড সিরিজেরও অন্যতম আকর্ষণীয়া বন্ড গার্ল হিসেবে ডাই অ্যানাদার ডে-তে পিয়ার্স ব্রসনানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। জিংক্স জনসন চরিত্রটিতে তার অভিনয় অন্য একটি কারণেও সবাই মনে রাখবে। সিনেমাটিতে জিংক্স জনসন চরিত্রের জন্য রাখা হয়েছিল হানি রাইডার (আন্দ্রেস উর্সুলা) চরিত্রের বিখ্যাত বেশ কিছু দৃশ্যের হোমেজ। বিখ্যাত বিকিনি পরে সাগর থেকে উঠে আসার দৃশ্যটির পুনর্দৃশ্যায়ন তো ছিলই। আর বন্ড গার্ল হওয়ার আগেই হ্যালি বেরি ছিলেন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। এর আগেই অভিনয় করেছিলেন এক্স-মেন, সোর্ডফিশ, মনস্টার’স বল-এর মতো সিনেমায়। এরপরে তার ক্যারিয়ারের যাকে বলে আরও খোলতাই ঘটে।

এভা গ্রিন (ভ্যাস্পার লিন্ড; ক্যাসিনো রয়েল)
ড্যানিয়েল ক্রেইগের প্রথম বন্ড মুভি ক্যাসিনো রয়েল মুক্তির আগে স্পটলাইটের সবটুকু আলোই ছিল তার উপর। বন্ড ভক্তরা তাকে নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। তবে মুক্তির পর আলোর অনেকটাই কেড়ে নেন সিনেমাটির আকর্ষণীয়া বন্ড গার্ল এভা গ্রিন, ভ্যাস্পার লিন্ড চরিত্রটির জন্য। আর এই সিনেমাতে অভিনয় করে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসাটাকে ভালোই কাজে লাগিয়েছেন। পরে একে একে কাজ করেছেন দ্য গোল্ডেন কম্পাস, পারফেক্ট সেন্স, ডার্ক শ্যাডোস, ৩০০: রাইজ অফ এন এম্পায়ার, সিন সিটি: এ ড্যাম টু কিল-এর মতো সিনেমাগুলোতে।

প্রিয় পাঠক উপরে উল্লেখিত বন্ড গার্লদের মধ্যে কাকে আপনার সবচেয়ে বেশী পছন্দ তা আমাদের ঝটপট জানিয়ে দিন মন্তব্যে। এছাড়া আর কোন বন্ড গার্ল এই তালিকায় থাকা উচিত বলে আপনি মনে করছেন তাও জানিয়ে দিতে পারেন আমাদের।

আরো পড়ুনঃ
হলিউডের সিনেমায় অভিষেকের অপেক্ষায় ভারতের যত তারকা!
ডিসি এবং মার্বেল কমিক্সের যে চরিত্রগুলো বিশেষত্বের দিক থেকে অভিন্ন!

নাবীল অনুসূর্য
জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্কুলের পাঠ চুকিয়েছেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে, ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে কলেজের পাঠ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ফিচার-সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফেলোশিপ নিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপর একটি গবেষণার কাজ করছেন। গবেষণার বিষয় আমাদের চলচ্চিত্রে ’৫২-র উপস্থাপন: অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা। এছাড়াও ফ্রি-ল্যান্সিং লেখালেখি করছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে ও অন্যান্য মাধ্যমে।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ