অক্ষয় কুমার: করোনা বিধ্বস্ত বলিউডের সবচেয়ে বড় বাজির ঘোড়া!

অক্ষয় কুমার

আগামী ১৯শে আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘বেল বটম’ সিনেমার মুক্তির ঘোষনার পর থেকেই বলিউডে দেখা গেছে অন্যরকম এক উম্মাদনা। সাম্প্রতিক সময়ে এই তারকার সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য সিনেমা প্রদর্শকদের পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন করে। সাধারণত অক্ষয় কুমার অভিনীত ৩/৪টি সিনেমা প্রতি বছর মুক্তি পেয়ে থাকে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারনে অন্য তারকার মত এই সুপারস্টারের সিনেমাও আটকে আছে। মহামারী চলাকালীন সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দেশের বাইরে দৃশ্যধারনের মাধ্যমে ‘বেল বটম’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন এই তারকা। আর এই সিনেমাটির কাজ শেষ হওয়ার পর ক্রমান্বয়ে ইতিমধ্যে আরো অনেকগুলো সিনেমার কাজ করেছেন এই তারকা। বর্তমানে মুক্তি প্রতীক্ষিত এবং নির্মানাধীন মিলে মোট ৮টি সিনেমা রয়েছে অক্ষয় কুমারের হাতে। সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘বেল বটম’, ‘সুরিয়াবংশী’, ‘আতরঙ্গি রে’, ‘পৃথ্বীরাজ’, ‘বচ্চন পাণ্ডে’, ‘রক্ষা বন্ধন’, ‘রাম সেতু’ এবং ‘ও মাই গড ২’। এছাড়া আরো কয়েকটি সিনেমা আনুষ্ঠানিক ঘোষনার অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে খুব শীগ্রই এই তারকা শুরু করছেন আমাজন প্রাইম ভিডিও’র নতুন সিরিজ ‘দ্যা এন্ড’। এই মুহুর্তে বলিউডের অন্য কোন তারকার হাতে এত শক্তিশালী সিনেমার তালিকা নেই। বলিউডের নির্মাতা থেকে শুরু করে প্রদর্শক এবং প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের কাছে এখন সবচেয়ে প্রত্যাশিত নাম অক্ষয় কুমার। করোনা বিধ্বস্ত বলিউড বিনির্মানে অক্ষয় কুমারের প্রতি নির্ভশীলতার একটা সমীকরণ দাড় করানোর চেষ্টা করবো এই আলোচনায়।

- Advertisement -

বলিউডের একমাত্র ত্রাণকর্তা?
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালে মধ্যে অক্ষয় কুমারের মোট ৮টি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার সমসাময়িক শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খানের মত তারকাদের এই সময়ে ১/২টি সিনেমা মুক্তি পেতে পারে। তাহলে কি করোনা পরবর্তি বলিউডের একমাত্র ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছেন খিলাড়ি কুমার? করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে এই তারকা অভিনয় করেছেন একের পর এক সিনেমায়। ‘বেল বটম’ সিনেমার পর তিনি ‘বচ্চন পাণ্ডে’ এর দৃশ্যায়ন শুরু করেছেন, ‘আতরঙ্গি রে’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন, এরপর শুরু করেছেন ‘রাম সেতু’ এবং ‘রক্ষা বন্ধন’ সিনেমার কাজ। সামগ্রিকভাবে মোদ্দাকথা হচ্ছে মহামারীর সময় একটুও নষ্ট হতে দেননি এই তারকা। চলতি বছরে দক্ষিণের সিনেমার একের পর এক ধামাকার সামনে বলিউডের সিনেমার সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হয়ে দাঁড়িয়েছেন অক্ষয় কুমার। তার সিনেমাগুলোর ভরসায় নতুন করে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছেন বলিউডের সিনেমা প্রদর্শক এবং প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে বলিউডের এটিএম মেশিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই তারকা। সাধারণত প্রতি ৩/৪ মাসের ব্যবধানে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তি দিয়ে থাকেন অক্ষয় কুমার। আর নিয়মিত সিনেমা মুক্তির লক্ষ্যে স্বল্পতম সময়ে সিনেমার কাজ শেষ করে থাকেন এই তারকা। এছাড়া একই সময়ে একাধিক সিনেমার কাজও করে থাকেন এই তারকা। সিনেমার সংখ্যার পাশাপাশি তিনি মনোযোগ দেন প্রতিটি সিনেমার ভিন্নতায়। তাই একই বছরে অক্ষয় কুমার অভিনীত সিনেমার তালিকায় থাকে ‘প্যাডম্যান’ এবং ‘হাউজফুল’ সিরিজ। মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বাজেটে সিনেমা নির্মানের কারনে সিনেমাগুলোর মুনাফাও অনেকটা নিশ্চিত হয়ে থাকে। আর সম্ভবত এটাই অক্ষয় কুমারের অনন্য একটি বিশিষ্ট। করোনা দুঃসময়কে পিছনে ফেলে মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলোর মাধ্যমে বলিউডের সবচেয়ে বড় ত্রাণকর্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছেন অক্ষয় কুমার।

- Advertisement -

অক্ষয়ের পিছনে বলিউডের ১০০০ কোটি রুপির বেশী বিনিয়োগ?
মুক্তি প্রতীক্ষিত ৮টি সিনেমার মাধ্যমে বর্তমানে অক্ষয় কুমারের উপর বলিউডের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১০০০ কোটি রুপির বেশী। সাধারণত একশন নির্ভর সিনেমার বাজেট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে গড়ে অক্ষয় কুমারের প্রতিটি সিনেমার বিনিয়োগ ১৫০ কোটি রুপি। সে হিসেবে অক্ষয় কুমার অভিনীত এই ৮টি সিনেমায় বলিউড নির্মাতাদের মোট বিনিয়োগ ১২০০ কোটি রুপি। টাকার অংকে অনেক বেশী হলেও এই তারকার অতুলনীয় পেশাদারিত্ব নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির উপলক্ষ্য। মহামারীর সময়েও বছরে ৩/৪ টি সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি এই তারকার বলিউড এবং বলিউড সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি এই তারকার দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। বলিউড সংশ্লিষ্ট ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে গড়পড়তায় এই তারকার প্রতিটি সিনেমা ১৭৫ থেকে ১৮০ কোটি ব্যবসা করবে। সে হিসেবে প্রযোজকদের বিশাল অংকের বিনিয়োগের সবচেয়ে ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের খিলাড়ি।

বলিউডের অর্থনীতির পাঁচ ভাগের একভাগ অক্ষয়ের অবদান
বলিউডের সিনেমার বাৎসরিক আয়ের সাথে অক্ষয়ের সিনেমার সম্ভাব্য আয়ের হিসেব করলে দেখা গেছে বলিউডের অর্থনীতির পাঁচ ভাগের একভাগ অবদান অক্ষয় কুমারের। সাধারন সমীকরণ অনুযায়ী আগামী এক থেকে দেড় বছরের ব্যবধানে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই সিনেমাগুলো। প্রতিটি সিনেমা যদি গড়পড়তায় ১৫০ কোটি রুপির ব্যবসাও করে এবং আগামী এক বছরে তার ৪/৫টি সিনেমা মুক্তি পায় সেহিসেব বলিউডের এক বছরের আয়ে অক্ষয়ের অবদান দাঁড়াবে ৬০০ কোটি থেকে ৭৫০ কোটি রুপি। সে হিসেবে বলিউডের এক বছরের মোট ব্যবসায়ে অক্ষয় কুমারের অবদান দাঁড়াবে পাঁচ ভাগের এক ভাগের কাছাকাছি।

অক্ষয় কুমারের সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে কর্মসংস্থানেরও বড় একটা রাস্তা তৈরি হয়ে থাকে। নিজের সিনেমার মাধ্যমে বলিউডের বৃহত্তর স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ জন্য স্বস্থির নাম এই তারকা। মুক্তি প্রতীক্ষিত ৮টি সিনেমার বাজেট এবং সম্ভাব্য ব্যবসা বিবেচনায় এটা বলা যায় যে, মহামারী পরবর্তি সময়ে করোনা বিধ্বস্ত বলিউডের সবচেয়ে বড় বাজির ঘোড়া অক্ষয় কুমার।

আরো পড়ুনঃ
প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘বেল বটম’: জানা গেলো মুক্তির নতুন তারিখ
শুরু হলো অক্ষয় কুমার এবং ভূমি পেডনেকার অভিনীত ‘রক্ষা বন্ধন’

হোসেন মৌলুদ তেজোhttps://iammoulude.com/
হোসেন মৌলুদ তেজো একজন নিয়মিত ব্লগার যিনি সিনেমা নিয়ে লিখতে ভালোবাসেন। সিনেমার পাশাপাশি কবিতা, ছোট গল্প, সমসাময়িক এবং ব্যবসা সম্পর্কিত বিষয়েও লিখে থাকেন। প্রফেশনালী একটি বেসকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি বই পড়ে, সিনেমা দেখে এবং তার একমাত্র ছেলের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ