ভালোবাসার আরেক নাম সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা

সিনেমা শব্দের উৎপত্তি গ্রীক শব্দ ‘kinema’ শব্দের থেকে। পুরো বিষয়টির নাম সিনেম্যাটিকস্‌। স্বাভাবিকভাবেই এর সূত্র পাই kinematics শব্দ হতে। Kinematics শব্দটির আভিধানিক অর্থ- a branch of dynamics that deals with aspects of motion apart from considerations of mass and force. অর্থাৎ বিষয়টি গতিবিদ্যা সমন্ধীয়। আরোও একটু ভেঙে বলতে গেলে বলা যায়- ভর ও বলকে ছাড়াও বেগটাকেও গুরুত্ত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে বেগ অর্থে মানসিক অথবা শারীরবৃত্তীয় বেগ-এর কথাই বলা হয়েছে। দেখা যায়, মিউজিক শুনলে হাত, পা, বা শরীরের মুভমেন্ট। ঠিক একইভাবে সিনেমার বিভিন্ন অংশ মানসিক ও শারীরিক গতির সঞ্চালন করে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিনোদন হলো সিনেমা। যা বিশ্বের সবদেশেই আছে। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতে দক্ষিন অঞ্চল গুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আমাদের প্রিয় সাউথ ইন্ডাস্ট্রি গুলো।

ভারতে সিনেমার প্রচলন ১৯১৩ সালে। দাদা সাহেব ফালকের হাত ধরে ‘রাজা হরিশচন্দ্রে’র মাধ্যমে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না সেই নির্বাক সিনেমাটি মারাঠি।কালের বিবর্তনে সবকিছু ছাড়িয়ে হিন্দী ভাষাভাষী বলিউডের নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। একটা সময়ে বলিউডের সিনেমা রিমেক করতো ভারতের অন্যান্য প্রাদেশিক সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিগুলো। কিন্তু এখন তার উল্টো হচ্ছে। বলিউড তাকিয়ে থাকে তামিল তেলেগু কিংবা মালায়ালাম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিগুলোর দিকে। সেখানকার সুপারহিট সিনেমাগুলো এখন প্রায়ই রিমেক করতে দেখা যায় বলিউডে। বলিউডের চেয়ে বেশি বাজেটের সিনেমা নির্মাণের সাহসও করছেন তারা। ‘বাহুবলি’র পর এখন প্রায় সব সুপারস্টারদের সিনেমা বিগ বাজেটের। বলিউডের স্টারদের চেয়ে বেশি বাজেটের।

- Advertisement -

সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি

মূলত ৫টি ভাষার ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে গঠিত সাউথ সিনেমা। তামিল, তেলেগু, কান্নাড়া, মালায়ালাম ও টুলু ভাষা। যেগুলো নিচে সংক্ষিপ্ত পরিসরে দেওয়া হলো:

- Advertisement -

১। তামিল

তামিল নাড়ুর চেন্নাইয়ের কোদাবাক্কামে অবস্থিত তামিল সিনেমার স্টুডিওগুলো। ভারতে সর্বপ্রথম তামিল নাড়ুতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি স্থাপিত হয়। ১৯১৬ সালে। এই ইন্ডাস্ট্রি কলিউড নামে পরিচিত।

  • তামিল স্টারঃ রজনীকান্ত, থালাপতি বিজয়,কমল হাসান, ধানুশ,সুরিয়া,বিজয় সেতুপতি ,অজিথ কুমার,চিয়ান, বিক্রম,কার্থি, জেবা।
  • নায়িকাদের মধ্যে সামান্থা, নয়ন্থারা, তৃশা, হানসিকা, শ্রুতি, শ্রেয়া, তামান্না, অসিন (এর মধ্যে অনেকেই অন্য ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করে)
- Advertisement -

গল্পগুলো কেমন হয়?

মারদাঙ্গা মাসালা কাহিনী বলতে যা বুঝায়। ৭৫% সিনেমার কাহিনী এরকমই মনে হবে। তাই বলে কোন সিনেমা শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। প্রতি সিকোয়েন্সে চমকে ভরপুর। বিশ্বাস করতে পারবেন ? সেখানকার মানুষ রজনীকান্তের নামে মন্দির পর্যন্ত বানিয়েছে। তাকে ঈশ্বর তুল্যই মনে করে। তাই ৭০ এর কোঠায় বয়স হলেও রজনীর ছবি মানেই ব্লক বাস্টার হিট। ইদানিং মাসালা ফিল্ম অনেক কমেছে। বর্তমানে ছবিগুলোর কাহিনী বেশ সুন্দর।

২। তেলুগু

হায়দ্রাবাদের তেলেংগানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের সিনেমা নির্মিত হয় তেলুগু ভাষায়। ৮ টা স্টুডিও আছে। পৃথিবীর অন্যতম বড় স্টুডিও রামোজি ফিল্ম সিটি ও এখানে অবস্থিত। এই ইন্ডাস্ট্রি টলিউড নামে পরিচিত। সুদর্শন,স্টাইলিশ,ড্যান্সিং,ম্যানলি নায়ক দিয়ে তেলেগু সিনেমা বেশ ভালো অবস্থানে আছে। সেইসাথে টেকনোলজির ব্যবহার,রামোজি ফিল্ম সিটি যেখানে রেল স্টেশন টু স্টেডিয়াম সবই আছে,দারুন সব কন্সেপ্ট,মিউজিক দিয়ে তামিলের শক্ত প্রতিদ্বন্ধী। তেলুগু কমেডিয়ান ব্রাহ্মানান্দম তেলুগু মুভিতে অভিনয় করে বিশ্বরেকর্ড করেছেন।

  • তেলুগু স্টার: চিরঞ্জিবী,মহেশবাবু,পাওয়ানকল্যাণ, প্রভাস, ,নাগার্জুনা, ভিকটর ভেংকটেশ, রবি তেজা ,, আল্লু অর্জুন, এনটিআর, নাগা চৈতন্য,নিতিন,রামচরণ তেজা, বিজয় দেব্রাকোন্ডা আরো অনেকে।
  • আর নায়িকাদের মধ্যে কাজল, ইলিয়না, অনুশকা, কীর্তি সুরেশ সহ অনেকেই জনপ্রিয়।

৩। মালায়ালাম

কেরালার ইন্ডাস্ট্রি। বলিউড, কলিউড, টলিউডের তুলনায় বাজার ছোট হলেও মালায়ালাম সিনেমার অবস্থানও কমশক্ত নয়। তাদের সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি কাহিনীর বিচিত্রতা।বাংলাদেশে মূলত তামিল তেলেগুর ভক্ত বেশি পাওয়া গেলেও মালায়লাম সিনেমারও প্রচুর দর্শক আছে। গল্পে মূলত থ্রিলার আর নাটকীয়তার উপরই তারা জোর দিয়ে থাকেন। প্রেমাম,ব্যাঙ্গালোর ডেইজ, গ্র্যান্ডম্মাস্টার, দৃশ্যাম, মায়ামোহিনি, চার্লি, কালি, ১০০ ডেইজ অফ লাভ। সবগুলোই বেশ জনপ্রিয় সারা ভারতে। সহজ সাবলীল গল্প আর অভিনয়ে শিল্পীরাও বেশ সুনাম অর্জন করছেন। সিনেমায় উগ্র মারামারি কিংবা অসম্ভব কিছু খুবই কম দেখানো হয়।

  • অভিনয়ে যারা নাম করছেন: মাম্মোথি, পৃথ্বীরাজ, ফাহাদ ফাসিল,নিভিন, মোহনলাল, দুলকার সালমান।

৪। কন্নড় সিনেমা

কর্ণাটকের সিনেমা বলা হয় কন্নড় সিনেমা। এই ইন্ডাস্ট্রি ততটা বিশ্বজুড়ে নাম করতে পারেনি। তবে কেজিএফ চাপ্টার ওয়ান তাদের সর্বকালের সেরা সিনেমা। তাদের ইন্ডাস্ট্রিকে বলা হয় স্যান্ডালাউড। ভারতের পঞ্চম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বলা হয় একে। এখানে ৯৫০ সিঙ্গেল স্ক্রিন মাল্টিপ্লেক্স আছে। ১৯৭১ সাল থেকে শুরু হওয়া এ ইন্ডাস্ট্রি বছরে ১০০ এর উপরে সিনেমা মুক্তি দেয়।তাদের আপকামিং একটা বিগ বাজেটের সিনেমা হলো কেজিএফ চাপ্টার ২, যেটা ২০২১ সালে মুক্তির অপেক্ষায়।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ