একসাথে অভিষিক্ত বলিউডের চার তারকার বর্তমান হালচাল: একটি পর্যালোচনা

চার তারকার বর্তমান হালচাল

২০১২ সালে চার বলিউডের সিনেমায় একসাথে অভিষিক্ত হয়েছিলেন চার নতুন সিনেমাটি। শুরুটা একই সাথে হলেও তারকাদের ইঁদুর দৌড়ে কেউ এগিয়ে আর কেউ পিছিয়ে। এই চার অভিনেতা হচ্ছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, আয়ুষ্মান খুরানা, অর্জুন কাপুর এবং বারুন ধাওয়ান। আজকের এই লিখায় থাকছে এই চার অভিনেতা এবং এখন পর্যন্ত তাদের বলিউড যাত্রা নিয়ে আলোচনা।

- Advertisement -

১। বরুন ধাওয়ান
বরুন ধাওয়ানের বলিউড যাত্রা একজন সহকারী পরিচালক হিসেবে। ২০১০ সালে তিনি করণ জোহরের চলচ্চিত্র ‘মাই নেম ইজ খান’ এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তার দুই বছর পর ২০১২ সালে করণ জোহরের রোম্যান্টিক কমেডি ছবি ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বরুন ধাওয়ান। এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য তিনি বেস্ট মেল ডেব্যু বিভাগে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এই সিনেমায় তার সহ-অভিনেতা ছিলেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও আলিয়া ভাট। এই ছবিতে ববরুন ধাওয়ানের চরিত্রটির নাম রোহন। সিনেমাটি মুক্তির চলচ্চিত্র সমালোচক সিদ্ধার্থ মালহোত্রার চেয়ে বরুনকে এগিয়ে রাখেন। করণ জোহর সিদ্ধার্থ মালহোত্রাকে মূখ্য ভুমিকা রাখলেও পর্দায় বরুণের উপস্থিতি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। তারপর (২০১৪) সাল বরুণ এর ক্যারিয়ারেরর মোড় ঘুরিয়ে দেয় তার অভিনীত দুটি সিনেমা – ‘ম্যায় তেরা হিরো’ এবং রোম্যান্টিক কমেডি ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’। ঐবছর দুইটি সিনেমাই বক্স অফিসে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হয়।

এরপর পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনের ক্রাইম থ্রিলার ‘বদলাপুর’ (২০১৫) ছবিতে বরুণ ধাওয়ান একজন নিজেকে একজন অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য বরুণ ওই বছর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট অ্যাক্টর বিভাগে মনোনয়ন পান। একই বছর তার আরো দুইটি সিনেমা মুক্তি পায় – ‘এবিসিডি ২’ এবং ‘দিলওয়ালে’। এরমধ্যে ‘এবিসিডি ২’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং ‘দিলওয়ালে’ সিনেমায় শাহরুখ খানের ছোট ভাই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৬ সালে বরুণ ধাওয়ান অভিনীত অ্যাকশন ড্রামা ‘ডিশুম’ মুক্তি পায় এবং ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। ২০১৭ সালে তিনি আলিয়া ভাটের বিপরীতে ‘বাদ্রীনাথ কি দুলহানিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন। একই বছর তার অভিনীত ‘জড়ুয়া ২’ সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৯৭ সালের

- Advertisement -

সালমান খান অভিনীত ‘জড়ুয়া’ সিনেমার রিমেক ছিল এবং ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। ২০১৮ সনে তিনি ‘অক্টোবর’ সিনেমায় অভিনয় করেন। সুজিত সরকার পরিচালিত এই ছবিতে তার বিপরিতে অভিনয় করেন নবাগত বানিতা সান্ধু। ছবিটিতে বরুণের অভিনয় সমালোচকরা পছন্দ করলেও এটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি। এই বছর তার ‘সুই ধাগা: মেড ইন ইন্ডিয়া’ নাম আরেকটি ছবি মুক্তি পায় এ ছবিতে তার বিপরীতে আছে আনুস্কা শরমা এবং মুভিটি সেমি হিট হয়। এরপর করণ জোহর প্রযজিত কলঙ্ক, রেমু ডি’সোজা পরিচালিত ‘স্ট্রিট ড্যান্সার’ এবং ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘কুলি নম্বর ওয়ান’ সিনেমাগুলো ফ্লপ হয়। এই তালিকায় বরুণকে প্রথম রাখার একটি কারন হচ্ছে সহঅভিনেতা হিসেবে অভিষেকের পরও ২০১৪ থেকে ২০১৭ সল্ পর্যন্ত কোন ফ্লপ ছিলো না। পাশাপাশি তার বিশাল একটি ভক্তকুল তৈরী হয়েছে যা তাকে একজন সফল তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২। আয়ুষ্মান খুরানা
২০১২ সালে সুজির সরকার পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের চলচ্চিত্র ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যেম বলিউডে পা রাখেন আয়ুষ্মান খুরানা। কম বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি ব্যাবসায়িকভাবে সাফল্য অর্জন করেও তার শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিলো না। টেলিভিশন উপস্থাপক থেকে বলিউডে অভিনেতা হওয়ার যাত্রায় সুজিতের সিনেমাটি তকে এই সুযোগ এনে দেয়। কিন্তুু ভিকি ডোনার হিট হওয়ার পরও প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমায় কারিনার সহঅভিনেতা হিসেবে আয়ুষ্মান খুরানার অভিনয়ের কথা থাকলেও কারিনার বিরোধীতার কারনে সিনেমাতে তার বদলে দিলজিতকে নিয়ে সিনেমাটি নির্মান করতে বাধ্য হন নির্মাতারা।

এরপর ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নৌটাংকি শালা’ ফ্লপ হওয়ার পর যশ রাজ ফিল্মসের ৩ টি সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান এই তারকা। কিন্তুু ‘দম লাগাকে হাসো’ (২০১৫) ব্যবসা সফল হলেও ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু, (২০১৭) এবং বেকুফিয়া ( ২০১৪) ব্যবসায়িক ভাবে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ‘বরেলি কি বরফি’ (২০১৫) এবং ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ (২০১৭) সিনেমাগুলো সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তবে ২০১৮ সালটা ছিলো আয়ুষ্মানের জন্য সোনায় সোহাগা। ওই বছর ‘অন্ধধুন’ এবং ‘বাধাই হো’ সিনেমা দুটি তার ক্যারিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নী। ২০১৯ সালে ‘আর্টিকেল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ এবং ‘বালা’ সিনেমাগুলো তাকে বছরের সবচেয়ে সফল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শুভ মঙ্গল জিয়াদ সাবধান’ সিনেমাটির কারনে সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেতা। উল্লেখ্য যে আয়ুষ্মান খুরানা ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার জন্য বেস্ট মেল ডেব্যু বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন এবং ‘অন্ধধুন’ এবং ‘আর্টিকেল ১৫’ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ারের বেস্ট মেল সমালোচক পুরস্কার অর্জন করেন।

৩। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা
একজন ভারতীয় অভিনেতা এবং মডেল। ১৮ বছর বয়সে মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা সিদ্ধার্থ ২০১০ সালে করণ জোহরের সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘মাই নেম ইজ খান’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এরপর ২০১২ সালে করণ জোহর পরিচালিত ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনয় জীবনে পা রাখেন। এই সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে তিনি ধর্ম প্রোডাকশন্সের মোট ৫ টি সিনেমায় অভিনয় করেন, যার মধ্যে কাপুর এন্ড সান (২০১৭) হিট, হাছি তো ফাছি (২০১৪) এভারেজ, ব্রাদার্স (২০১৫)ফ্লপ, বার বার দেখো (২০১৬) ফ্লপ এবং ইত্তেফাক (২০১৭) বক্স অফিসে এভারেজ ব্যবসা করে।

২০১৪ সালে এক ভিলেন দিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও তারপর তেমন আর কোন মুভিতে ব্যবসায়িক সফলতার স্বাদ পাননি সিদ্ধার্থ। এছাড়া এই তারকার মারজাভান, জাবারিয়া জরি, এ জেনটেলম্যান, আইয়ারী সিনেমাগুলোও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরে।

৪। অর্জুন কাপুর
অর্জুন কাপুর বলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক বনি কাপুরের পুত্র। নায়ক হিসেবে অভিষেকের আগে অর্জুন কাপুর ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কল হো না হো’ এবং ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সালাম এ ইশক’ সিনেমা দুটিতে সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি তার বাবার প্রযোজিত ‘নো এন্ট্রি’ এবং ‘ওয়ান্টেড’ সিনেমা দুটিতে সহকারী প্রযোজক ছিলেন। আর অভিনেতা হিসেবে বলিউডে আসেন যশরাজ ফিল্মসের ‘ইশকজাদে’ সিনেমার মাধ্যমে। দুইজন নতুন মুখ নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু পরের সিনেমা ‘আওরঙ্গজেব’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। তবে গুন্ডে (২০১৪) এবং টু স্টেটস (২০১৬) বক্স অফিসে সফল হলে নির্মাতারা তাকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমা পরপর ব্যস্ত হলে এই তারকার ক্যারিয়ারে কিছুটা স্থবিরতা কাজ করে। ইয়াশরাজ এর মতো এতো বড় প্রোডাকশন এর নায়ক হয়েও ফ্লপ এর মুখ দেখতে হচ্ছে তার বারবার।

আরো পড়ুনঃ
বলিউডের লেডি সুপারষ্টার এবং তাদের সিনেমা উপাখ্যানঃ ১৯৮০ থেকে ২০২০
প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে বলিউড: একদিনে ছয় সিনেমার মুক্তি ঘোষনা

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ