সোমবার, মে ১৭, ২০২১

আমার দেখা সেরা দশঃ একবিংশ শতাব্দীতে মুক্তি পাওয়া রেস্কিউ ভিত্তিক সিনেমা

আজকালকার একশন বেইসড মুভির মধ্যে রেস্কিউ মিশন মুভি গুলো অন্যতম আকর্ষণীয়। তেমনি ১০ টি রেস্কিউ মিশন বেইসড মুভি তুলে ধরব আপনাদের সামনে। মজার ব্যাপার মুভি গুলোর ৫টি ফিক্সনাল বেইসড হলেও বাকি ৫টি মুভি সত্য ঘটনার আলোকে তৈরি করা হয়েছিল।

- Advertisement -

১০। 12 Rounds (2009)

একজন সাধারন অফিসার থেকে হিরইসম দেখানো অফিসার ফিসার। এফবিআই এর এক মিশনে এক ড্রাগ ডিলার কে ধরতে সহায়তা করে, সেই অবস্থান ঠেকে ডিটেকটিভ হিসেবে প্রমোটেড হয় ফিসার, কিন্তু ড্রাগ ডিলার পালিয়ে যায় জেইল থেকে কৌশলে কিডন্যাপ করে ফিসারের গার্লফ্রেন্ডকে। আর তাকে বাঁচানোর জন্যে ১২ রাউন্ডের একটা গেইম চ্যালেঞ্জ ছুরে দেয় ফিসারকে। ফিসার চরিত্রে অভিনয় করা সেই সময়ের জনপ্রিয় রেস্লার জন সিনা এক কথায় অসাধারন। আমার মতে অভিনয়ের দিকে মুভি দুনিয়াতে তার মেরিন এবং এই ১২ রাউন্ড ই সবচেয় সেরা মুভি। পরবর্তীতে ১২ রাউন্ড নামের কিছু মুভি রিলিজ হয়েছিল তবে এগুলর মধ্যে সবচেয় সেরা মুভি ছিল এটিই।

- Advertisement -

০৯। Extraction (2019)

এই মুভি নিয়ে আলাদা করে হয়তো বলার কিছু থাকবে না, কেনোনা অধিক সমলচিত হয়েছিল এর কিছু প্রেক্ষাপট এর কারনে এবং কিছু কলাকুশলী এর এক্তিং ও সংলাপ এর কারনে। সবকিছু কে ছাপিয়ে গিয়েছিল হেমসঅর্থ তার এক্তিং এবং মুভির একশন সিকুয়েন্স গুলো দিয়ে। ইন্ডিয়ান একজন ড্রাগ লর্ড এর ছেলে কিডন্যাপ হয় আর তাকে আটকে রাখা হয় কাল্পনিক ঢাকা তে। সেই ড্রাগ লর্ড এর ছেলে কেই উদ্ধার এর জন্যে ভাড়া করা হয় এই ব্ল্যাক মার্কেট মারসিনারি টাইলার রেক কে। সেই উদ্ধার অভিযানে একশন থ্রিল এক কথায় অসাধারণ, বিশেষ করে হেমসঅর্থ আর রান্দিপ হুদার ফাইট সিন গুলো ভালোই নজর কারা ছিল। করনাকালিন সময়ে নেতফ্লিক্স এ মুক্তি দেউয়া হয়েছিল মুভিটিকে।

০৮। Vanguards (2020)

জাকি চ্যাঙ এর মুভি মানেই একশন, কমেডি, কারাতে-কুংফু এর মিশ্রণ থাকবে স্বাভাবিক। তেমনি একটি গল্প এটি। একটা ভিআইপি প্রটেকশন সিকিউরিতি কোম্পানি হচ্ছে ভ্যানগার্ড. তাদের এক ভিআইপি ক্লায়েন্ট কিন ও তার স্ত্রী কে কিডন্যাপ করা হয়, তাদের কে কৌশলে রক্ষা করতে পারলেও কিন এর মেয়েকে কিডন্যাপ করতে সন্ত্রাসী ওমার এর দল পাড়ি দেয় আফ্রিকাতে। গল্পের শুরুটা এমনই, সেই পরিবারের সুরক্ষা দিতেই সর্বত্র ঝাপিয়ে পরে ভ্যানগার্ড এর কম্যান্ডার তাং হান্টিং সহ বেশ কিছু এজেন্ট। তবে এই মুভির একশন, রেসিং অ্যাডভেঞ্চার সবকিছুই মুভিটাকে আলাদা করে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রিয় অভিনেতা জাকি চ্যাঙ কে গুরুর ভুমিকায় একটু আলাদা ভাবে দেখা গেছে এই মুভিতে।

০৭। White House Down (2013)

রেস্কিউ মিশন সম্পর্কিত মুভিতে এই মুভির অবদান অপরিসীম বলাই বাহুল্য। একটা ছোট্ট প্লট এর মুভিটি সাড়া ফেলেছিল দর্শকদের মনে অনেকখানি। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় হোয়াইট হাউস এবং বন্দী হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজ বাস ভবনেই। বাইরে থেকে আসা সমস্ত বাহিনীও গণ্ডি বদ্ধ, কেনোনা বাইরে থেকে তারা কোন রকম অ্যাটাক করলেই হুমকির মুখে প্রেসিডেন্টসহ অনেক বন্দীর জীবন। ভিতরে রয়ে গেছিল একজন কেপিটল পুলিশ অফিসার জন কেল, দায়ীত্ব যে পরে গেল তার কাধেই প্রেসিডেন্ট সহ বাকি বন্দীদের বাঁচানোর। সেই ক্যারেক্টার চানিং টাটাম এর অভিনয় ছিল দারুন, বলা যায় ওই মুভি থেকেই এই অভিনেতার উত্থান হয়েছিল কিছুটা এর পর কয়েকটি একশন মুভি উপহারও দিয়েছিলেন তিনি।

০৬। Rambo IV (2008)

একশন ফিল্ম এর বেইস মুভি বলা হয় যাকে সেই রেম্বো সিরিজের চতুর্থ সংস্করন এটি। মুভিটি ফিক্সনাল হলেও এর মুভির মুল প্লটটি অরিজিনাল স্টোরি থেকেই ইন্সপায়ারড। প্রায় ৫০ বছর ধরে বার্মা যেখানে ওয়ার জোন হিসেবে চিনহিত হয়ে আসছিল, সেখানের মানুষের প্রতিদিন বাঁচার জন্য লড়াই, আর বার্মিজ সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, অরাজকতা খুব ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিল মুভিতে। ক্রিস্টিয়ান একটা মিশনারি মেডিক্যাল টিম যায় সেখানে মানুষকে সহায়তা করতে কিন্তু সেই মিলিটারি গ্রুপের হাঁতে ধরে পরে পুরো দল, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে গোপন অভিজান চালানাকারি একটা রেস্কিউয়ার মিলিটারি টিম কিন্তু এই বার্মিজ সেনাবিহিনির নৃশংসতার সামনে তারাও অনেকটা হেল্পলেস অগত্যা জন রাম্ব কে তার বোটম্যান খোলস ছেরে বের হতে হয় আসল রুপে আর এগিয়ে যায় মুভির বাকি প্লট টুকুন। একশন সিনের সাথে বীভৎসতা অনেক বেশি দেখানো হয়েছে এই মুভিতে।

০৫। Tears Of The Sun (2003)

সময় টা একটু আগের, আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়কার, দুরদশাগ্রস্থ মানুষদের চিকিৎসা ও সহযোগিতা করছিলেন মার্কিনী একজন ডক্টর। সাথে ছিল আরও কিছু নাগরিক ও যুদ্ধ দুর্দশা গ্রস্থ অসহায় কিছু মানুষ। এই চিকিৎসা ও জঙ্গলে হসপিটালের ব্যাপারে জেনে যায় বিদ্রোহকারী মিলিটারি রা আর সেই মার্কিন ডক্টর সহ বাকি মানুষদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে লেফটেন্যান্ট এ কে ওয়াটার্স ও তার সিল টিম। একে ওয়াটার্স চরিত্রে ব্রুস উইলিস আর ডক্টর এর চরিত্রে মনিকা বেলুচ্চি খুব ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন যে বাস্তবিক রেস্কিউটি কতটা ভয়াবহ ছিল। গহীন জঙ্গলে শুধু পালিয়ে বেড়ানো না আপনাকে সাথে এক গাঁদা মানুষ নিয়ে পাড়ি দিতে হবে সেইফ প্লেস অবধি, যেটাও খুব একটা নিকটে নয়।

০৪। Argo (2012)

১৯৭৯ যখন ইরানে চলছিল বৈপ্লবিক আন্দোলন। ইরানে অবস্থিত মার্কিন দুতাবাসে হামলা চালানো হয়। অনেককেই বন্ধী বানানো হয়েছিল অনেককে নৃশংস ভাবে হত্যাও করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যবশত ৬ জন দূতাবাস থেকে পালিয়ে যেতে পারে, আশ্রয় নেয় কানাডিয়ান দূতাবাস প্রধান এর বাড়ি, খবর আসলো যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন দুতাবাসের নাগরিক জীবিত, কিন্তু কিভাবে আনা যায় তাদের? ইরানে চলছিল তখন ভয়াবহ অবস্থা আমেরিকান শুনলেই তাকে জন সম্মখে হত্যা করা হচ্ছে, ফাঁসিতে ঝুলানো হচ্ছে, এমন সময় কোন সামরিক অভিজান ও সম্ভব নয়, তখনই এগিয়ে আসেন এক সিআইএ এজেন্ট টনি মেন্ডেজ কানাডিয়ান একটা সাইন্স ফিকশন মুভির ডিরেক্টর সেজে ফেইক পাব্লিসিটি চালিয়ে ঢুকে পরেন সেই ইরানে, বাকি ৬ জন কেও তার শুটিং টিমের ক্রিউ বানিয়ে সবার সামনে দিয়ে দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা থেকে বের করে আনেন এই এজেন্ট মেন্ডেজ। টানটান উত্তেজনার এই মুভিটি সে বছর ৩টি অস্কার জিতে নিয়েছিল। আর মুভিত বেন এফ্লেক ছিলেন অনবদ্য। বেন নিজেই ডিরেক্ট করেন এবং টনি মেন্দেজ চরিত্রে অভিনয় করেন।

০৩। Act Of Valor (2012)

ফিলিপিনে সন্ত্রাসী হামলায় বাচ্চা সহ নিহত হয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাড়া বিশ্ব জুরেই তাণ্ডব চালানো ছিল সেই সন্ত্রাসী গ্রুপের পরিকল্পনা। মেক্সিকান একজন ডাক্তারকেও কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় তারা। আর সেখান থেকেই মিশনের শুরু হয় আমেরিকার রণকৌশলে সুসজ্জিত একটা শক্তিশালী নেভি সিল টিম এর। অপহৃত ডাক্তার কে রেস্কিউ করার পর থেকেই জানা যায় সন্ত্রাসী দের একের পর এক তথ্য আর খুলতে থাকে তাদের পরিকল্পনার একের পর এক জট। মারাত্মক থ্রিল আর একশন এ ভরপুর সিনেমা এটি। জানা যায় এটি শুধু সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত না এতে অভিনয় করা ক্যারেক্টার গুলো সত্তিকারের অংশ নেউয়া মিলিটারি সেনাই ছিল। হয়তো এই কারনে এই মুভির প্রানবন্ততা ফুটে উঠেছে আরও বেশি।

০২। 13 Hours (2016)

২০১২ সাল যখন পৃথিবীর সবচেয় ভয়ঙ্কর জায়গা হিসেবে লিবিয়া কে অভিহিত করা হয়। অন্যান্য দেশের এমব্যাসি বন্ধ এবং রাষ্ট্রদূত দের সরিয়ে নেউয়া হচ্ছিল। কিন্তু বেনগাজিতে রয়ে গেছিল মার্কিন দূতাবাস সাথে কিছু সিআইএ এজেন্টের দল। হটাত ই খেয়াল করতে পারল কেউ একজন গোপনে তাদের বিভিন্ন ছবি তুলে যাচ্ছে, আচ করতে লাগলো পরিস্থিতি খারাপ হতে যাচ্ছে হয়তো। হটাত সেখানের সন্ত্রাস দল এটাক করে বসলো রাষ্ট্রদূতের বাস ভবনে এর পরবর্তী ১৩ টা ঘণ্টা একটা রুদ্ধ শ্বাস অবস্থায় কাটাতে হয় সেখানকার সকলকে। একশন ফিল্ম বা রেস্কিউয়ার ফিল্ম হিসেবে যা আপনাকে মারাত্মক থ্রিল দিবে একথা নিসন্দেহে বলা যায়। ৮৯ তম অস্কারে বেষ্ট সাউন্ড মিক্সিং এ নমিনেশন পেয়েছিল এই মুভিটি।

০১। Operation Red Sea (2018)

হলিউডি মুভির জয় জয়কার থেকে এবার এবার একটু ভিন্ন ধারার মুভিতে ফিরা যাক। চীনা হংকং যুদ্ধের মুভি এটি। ইয়েমেনের গৃহ যুদ্ধের সময় অনেক বিদেশী সহ প্রায় ৬০০ চিনা নাগরিক আটকে যায় সেখানে। চীনা রাষ্ট্রদূত ও আটকে পরে সেখানে তাদের উদ্ধারের মিশনেই নামতে হয় চিনা সেনা ও নৌ প্লাটুন কে, চরম পন্থী গ্রুপ জাকা এর মুখোমুখি হয়ে এক দৃঢ়তার পরচিয় দিতে হয়েছিল চীনা সেনাদের। একশন কত প্রকার ও কি কি এবং একটা রেস্কিউ মিশনে কতটা ক্ষতি, কতটা হতাহত হতে পারে তার যথার্থই তুলে ধরতে পেরেছেন ডিরেক্টর এই সিনেমাতে। মুভিটি চিনা মিলিটারি মুভিতে এক দারুন বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। ২০১৮ সালের সবচেয় বেশি আয় করা চিনা মুভি এটি এবং চীনা ইতিহাসে সরবচ্চ চতুর্থ আয় করা মুভি এটি। ৫৭৯ মিলিয়ন আয় করা এই মুভিটি ৯১ তম অস্কারে সেরা বিদেশী ভাষার মুভি হিসেবে নমিনেশন পেয়েছিল।

তাহলে পাঠক এর মধ্যে কত গুলো মুভি আপনি দেখেছেন? আর কোন মুভিটি আপনার কাছে বেশি ভালো লেগেছে? কমেন্তস বক্স এ জানাতে ভুলবেন না। দেখা হবে পরের কোন রিভিউ তে সে পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন।

- Advertisement -

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • Sphulingo