সোমবার, মে ১৭, ২০২১

আমার দেখা সেরা দশঃ একবিংশ শতাব্দীতে মুক্তি পাওয়া জম্বি ভিত্তিক সিনেমা

বর্তমানে মুভি লাভারদের কাছে কম বেশি অনেকেরই পছন্দ জম্বি সিনেমা। আর তার উপরে ভিত্তি করে সিনেমা নির্মাতারা রিলিজ দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক দারুন সব জম্বি মুভি। জম্বি এ এক আতঙ্কের নাম, আক্রান্ত ব্যক্তির কামড়/আঁচর থেকে আপনার গায়ের রক্ত নালিকায় সেই ভাইরাস প্রবেশ করলে মুহূর্তেই আপনিও আক্রান্ত হয়ে যাবেন সেই ভাইরাসে, হয়ে উঠবেন এক হিংস্র জম্বি। এদের না আছে বুঝার ক্ষমতা কে আত্মীয় বা কে আপনজন। একেক সিনেমাতে এদের একেকভাবে উপস্থাপন করা হলেও বেশীরভাগ সিনেমাগুলোতে দেখানো হয়েছে, মৃত মানুষের মতোই হাটে এরা, অন্ধকারে চোখে দেখে না তবে শব্দের উপর ভিত্তি করে এরা এটাক করে। এরা বিরতিহীন, এরা অদম্য। পাঠকদের জন্যনতুন শতাব্দীতে বিগত ২০ বছরের নির্মিত এমনই ১০টি জম্বি সিনেমা নিয়ে আজকের পর্ব।

- Advertisement -

১০। Shaun of the Dead (2004)

লিস্ট এ সর্ব প্রথম রাখা হয়েছে কমেডি ঘরানার এই মুভিটি। যেখানে শন চরিত্রে অভিনয় করেছে মিশন ইম্পসিবল সিরিজের নামকরা বেঞ্জি চরিত্রের অধিকারী সাইমন পেগ। শন আর তার বন্ধু এড হটাত ই আবিষ্কার করতে পারে শহরের মানুষ সব উতভট আচরণ করতে শুরু করেছে। তাদের কাছে ব্যাপারটি প্রথমত খুব মজার মনে হলেও আসতে আসতে মনে হতে থাকে যে না তারা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি দেখে যতটা না ভয় পাবেন তবে অনেক মাত্রায় বিনোদিত হবেন এর কমেডি গুলো দেখে। জম্বি মুভির উপর কিছুটা হাসির খোরাক নিতে চাইলে দেখে নিতে পারেন এই মুভিটি। আইএমডিবি তে ৭.৯ রেটিং পাউয়া মুভিটি মেইক করতে মাত্র ৬.১ মিলিয়ন খরচ করে ৩০ মিলিয়ন উপারজন করে নিয়েছে।

- Advertisement -

০৯। Zombieland (2009)

কিছুটা ওয়েস্টার্ন ধাচ কিন্তু কমেডি ঘারানারই মুভি এটি। পুরো শহরে যেখানে বেশীরভাগ সব মানুষই আক্রান্ত সেখানে ৪ জন সারভাইভার এর কাহিনীই তুলে ধরা হয়েছে। জেসি আইসেনবারগ, উডি হেরেলসন ও এমা স্টোন অভিনীত মুভিটিতে আপনি যখন জম্বির মোকাবিলা করবেন কি কি রুলস ফলো করলে আপনি সেই যুদ্ধে জিততে পারবেন তেমনি বেশ কিছু রুলস আপনাকে শেখানো ও দেখানো হবে। রুবিন ফ্লেইসার এর ডিরেক্ট করা মুভিটি সে বছর জম্বি কমেডি হিসেবে ভালোই সুনাম কুড়ায়, সেটার রেশ ধরেই একই ডিরেক্টর প্রায় ১০ বছর পর এই মুভির সিকুয়েল জম্বিল্যান্ড ডাবল ট্যাপ রিলিজ দেয়। প্রথম মুভির সেই ক্রেজটি পরের মুভিটি ওই ভাবে ধরে রাখতে না পারলেও আপনি দেখে নিতে পারেন কমেডি হিসেবে।

০৮। Pride and Prejudice and Zombies (2016)

রাজ পরিবারের জম্বি এটাক এর আগের সাধারণত কোন সিনেমাতে প্রদর্শিত হয়নি। বিখ্যাত নভেলিস্ট জেন অস্তেন এর ১৮১৩ সালে রচিত প্রাইড এন্ড প্রিজুডিস নভেল এর পেরডি নভেল ২০০৯ সালে উপস্থাপন করেন সেথ গ্রাহাম শ্মিথ, তার উপর নির্মিত হয় এই সিনেমাটি। ২০১৬ সালে নির্মিত সিনেমাটি অনেকটা লেডি একশন বেইসড মুভি। এখানে দেখানো হয় মিস এলিজাবেথ বেনেট ও তার ৪ বোন অস্ত্র বিদ্যায় ভালোই পারদর্শী থাকে সময়ের চাহিদায় তারাই তাদের ফ্যামিলি কে জম্বিদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় পরিচয় হয় সেই সময়কার অন্যতম সাহসী জম্বি কিলার ফিটজউইলিয়াম ডারসি এর সাথে, বাকি কাহিনী টুকুন জানতে নিজেই একবার দেখে নিতে পারেন সিনেমাটি।

০৭। Dawn of the Dead (2004)

ব্যস্ত স্নাত এক নার্স এনা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে, তারপর দিন সকালেই প্রতিবেশী এক শিশু রক্তমাখা বীভৎস চেহারায় এসে এনার হাজবেন্ড কে কামড়ে দেয় কিছুক্ষণ পরেই এনা আবিষ্কার করতে পারে তার হাজবেন্ড ও ওই শিশুটির মতনই হিংস্র আচরণ শুরু করে। বাঁচার জন্যে মরিয়া হয়ে বেরিয়ে পরে এনা বাইরে পুরো শহরের অবস্থাও খুবই নাজুক বেঁচে থাকার তাগিদে সারভাইভার কিছু মানুষের একটা দল মিলিত হয় আর সিনেমার কাহিনীটি এগিয়ে যায়। জম্বি মুভি হিসেবে সেই সময় যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার ছিল মুভিটি।

০৬। I am Legend (2007)

উইল স্মিথ এর অসাধারণ কিছু মুভির মধ্যে এটি একটি। মুভির প্লটে দেখানো হয়। ক্যানসারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে গিয়ে এক ভাইরাস আবিষ্কৃত হয় যা পৃথিবীর প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন মানুষই মারা যায় এর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে। অপরদিকে ৫৮৮ মিলিয়ন মানুষ ভাম্প্যারিক আলবিনিও জম্বি মিউট্যান্ট এ পরিনত হয়। মানহাটন সিটিতে প্রায় একা বেঁচে থাকেন ইউ এস আর্মির ভাইরলজিস্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবার্ট নেভিল। আর প্রত্যহ খুজতে থাকে কি করে আবিষ্কার করা যায় এর প্রতিষেধক। আক্রান্ত ইঁদুর এর উপরে পরীক্ষা চালাতে থাকে আর সুযোগ খুজে কোনভাবে একটা মিউট্যান্ট কে ধরে আনা যায় কিনা। একবার সমর্থ হয়েছেনও এক জম্বি ধরে আনতে কিন্তু তাতে অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে উঠলো। রিচারড মাথিসন এর ১৯৫৪ সালে রচিত নভেল এর উপর বেইস করে মুভিটি তৈরি। আপনি জানলে অবাক হবেন ১৯৯৪ সাল থেকে ওয়ারনার ব্রস এই মুভিটি তৈরির জন্য অনেক এক্টর ও ডিরেক্টর এর সাথে কথা বলেছেন কিন্তু বাজেট ইস্যুতে মুভিটির কাজ এগোতেই পারেনি। পরে ২০০৬ সালে ১৫০ মিলিয়ন খরচে নির্মাণের কাজ শুরু করে ২০০৭ এ রিলিজ দেউয়া মুভিটি ৫৮৫ মিলিয়ন তুলে নেয় যা সে বছর ৭ম হাইয়েস্ত গ্রসিং ফিল্ম হিসেবে উঠে আসে তালিকায়।

০৫। Maze Runner (2014)

সাই ফাই ঘারানার ৩ পর্বের এই মুভি সিরিজটি ১ম পার্ট দিয়েই সবার নজর কাড়ে। কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে এবং কিশোর চরিত্রের আলোকে গড়ে উঠেছে বলে, কিশোর যুবা সবার কাছেই সারা ফেলেছে এই মুভি সিরিজটি। তবে জম্বি ক্যারেক্টার এর আবির্ভাব ঘটে এর ২য় পর্ব থেকে। গোলকধাঁধার সমাধান করে থমাসের দল যখন বেরিয়ে আসতে পারে ঠিক তখন আরেকদল মানুষ তাদের সহযোগিতা করে কিন্তু আবিষ্কার করতে পারে তারাও তাদেরকে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্যে শুধু ব্যাবহার করে যাচ্ছে, পালাতে হয় সেখান থেকেও কিন্তু বাইরে বেড়িয়ে পড়লো মহা বিপদে এখানে সেখানে সব যায়গায় জম্বি ছাড়া কোন পারাকুল নেই, একদিকে তাদের উপর পরীক্ষা করা সাইন্টিস্ট দল পিছু নিয়েছে অপরদিকে চারপাশে জম্বি এর মাঝেই বাঁচতে হবে এবং বের করতে হবে কেন তাদের নিয়ে এই খেলা চলছে। তিনটি মুভি তৈরি করতে ১৫৭ মিলিয়ন খরচ করলেও প্রায় ৯৪৯ মিলিয়ন আয় করে নেয় এই সিরিজটি। যা কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করা মুভি সিরিজের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

০৪। Peninsula (2020)

নামকরা মুভি ট্রেইন টু বুসান এর পরবর্তী সংস্করণ এটি। তবে এ মুভিতে দেখানো হয় মানুষজন জম্বি সম্পর্কে অনেক ভালো ভাবেই জেনে বুঝে গেছেন। কিভাবে জম্বিকে ফাঁকি দেউয়া যায়, এক রাস্তা থেকে অন্য দিকে সরিয়ে দেউয়া যায় বা কিভাবে অন্য ব্যক্তির উপর জম্বিদের আক্রমণ করানো যায় এবং কিভাবে জম্বিদের দিয়ে গেইম সো চালানো যায়। এখানে মানুষের শত্রু মানুষকেই দেখানো হয়েছে জম্বিকে শুধু টোপ / মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে মাত্র। তবে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা বা সন্তানের প্রতি মায়ের আত্মত্যাগ খুব ভালোই বুঝবেন আপনি। কোরিয়ান এই মুভিটি ২০২০ সালের করনাকালিন অবস্থাতেই রিলিজ দেউয়া হয়। মুভিটির বাজেট মাত্র ১৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।

০৩। Alive (2020)

এ সময়কার জম্বি মুভি হিসেবে দারুন একটি মুভি এটি। দারুন বলার পিছনে কারণও আছে। জুন উ নামক এক গেইমার যিনি দিনের বেশীরভাগ সময় ই কাটান তার নিজের ফ্ল্যাট এ ব্রডকাস্টিং ও গেইম খেলে । হটাত একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক অরাজক অবস্থার মধ্যে পরলেন। চোখের সামনে দেখছেন মানুষ মানুষকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে, আক্রমণ করছে। হা বাকি জম্বি মুভি গুলোর মতোই ঘটনা। কিন্তু মূল ঘটনাটা শুরু হয় তারপর। জুন উ যখন একাকি বেঁচে থাকেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু কতদিন সেটা ? হটাত ইলেক্ট্রিসিটি, পানি সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শেষ হয়ে যাচ্ছে খাবারের সরবরাহও। কিন্তু ঘর থেকে বের হলেই জম্বি। ঘরে থেকে এভাবেও আপনি মরবেন আবার বাইরে বের হলে জম্বির হাতেও মরবেন। নিসঙ্গ এক মানুষ বাঁচার আকুতি নিয়েই টিকে আছে নিজের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। জুন উ কি বাঁচতে পারে শেষ অবধি নাকি নিজেই সুইসাইড করে নিসঙ্গ জীবন থেকে ? জানতে হলে দেখে নিন মুভিটি কথা দিচ্ছি বোর হবেন না একটুও। মুভিটিতে ভাষা খুবই কম ব্যাবহার করা হয়েছে।

০২। World War Z (2013)

জম্বিদের হিংস্রতা, ক্ষিপ্রতা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা খুব ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই মুভিটিতে। আর যেখানে ব্রাড পিট এর মতন একজন নামকরা অভিনেতা অভিনয় করেছেন বুঝতেই পারছেন মুভিটি অসাধারণ কিছু অবশ্যই। ইউনাইটেড নেশন এর সাবেক ফিল্ড এজেন্ট গেরি লেন এর ফ্যামিলি সারভাইভ ও এর প্রতিষেধক আবিষ্কার এর গল্প নিয়েই এগিয়ে গেছে মুভির বাকি কাহিনী। মুভিটি দেখা শুরু করে পুরোটা সময় জুড়েই টান টান উত্তেজনার মদ্ধেই কাটাতে হবে আপনাকে। তবে এ মুভির সবচেয় আলাদা একটা দিক যেখানে শেষ অবধি গেরি লেন একটি প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যার মাধ্যমে আপনি জম্বির সামনে থাকলেও জম্বি আপনাকে আক্রমণ করতে আসবে না। এ মুভিটির একটা সিকুয়েল আসার কথা বলে হয়েছিল। কিন্তু নানান জটিলতার কারনে সেটি এখনো অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে।

০১। Train To Busan (2016)

আমাদের এই জম্বি লিস্টের সর্ব প্রথম স্থানের মুভি এটি। পুরোটা সময় একটা মারাত্মক থ্রিলের মধ্যে থাকবেন আপনি। আগে না দেখা থাকলে কাহিনী মটেও আচ করতে পারবেন না আর বুঝতেই পারবেন না আদৌ কি কোন ক্যারেক্টার সারভাইভ করবে কি ? শুধু যে জম্বিদের সাথে ফাইট করে বেঁচে থাকবেন এমন না, এই একটি মুভিতে আপনি সারভাইভের সাথে সাথে পেয়ে যাবেন ফ্যামিলির প্রতি একেকজনের যেই টান ও ভালোবাসা তা খুব ভালো ভাবেই তুলে ধরা হয়েছে মুভিতে। এক পিতার কাছে তার কন্যার অবস্থান, এক হাজবেন্ড এর কাছে তার অনাগত সন্তানকে বহন করা স্ত্রীর প্রতি যেই ভালবাসা। খুব ভালোভাবেই আপনাকে নাড়া দিয়ে যাবে বলে কথা দিচ্ছি। আর পরিশেষে যখন মনেই হবে সব শেষ এই তো আরেকটু তখনই আপনি হাত পা শক্ত করে বসবেন এই ভেবে যে বাঁচবে তো ? কোরিয়ান মুভি আর ডিরেক্টর যে বস লেভেলের কিছু তা তারা আরও একবার প্রমান করলো এই মুভির মাধ্যমে।

আর জম্বি মুভির কথা বলতে গেলে আরও কিছু ভালো কন্টেন্ট আছে রেসিডেন্সিয়াল ইভিল, ওয়াকিং ডেড তবে সেগুলো নিয়ে আগামী পর্বগুলোতে থাকবে বিস্তারিত।

- Advertisement -

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • Sphulingo