করোনার কাছে হেরে চলে গেলেন বাংলা সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী

সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী

বাংলা সিনেমার অন্যতম নন্দিত অভিনেত্রী কবরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একবছর ধরে চলমান এই করোনা মহামারীর কাছে হেরে চিরবিদায় নিলেন ঢালিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী। শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। সংবাদ মাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন কবরীর ছেলে শাকের চিশতী।

- Advertisement -

জানা গেছে ৫ এপ্রিল নিজের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এরপর ঐদিন রাতেই তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায় কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়। আর শুক্রবার রাতে পৃথিবীর ময় ত্যাগ করে চিরনিদ্রায় চলে গেলেন এই অভিনেত্রী-সাংসদ।

সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী

- Advertisement -

বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন কবরী। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা পরিচালনায়ও ছিলেন সক্রিয়। নিজের জনপ্রিয়তার কারনে সাংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তারকা। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রের বর্ণিল সময়ের শুরু করেছিলেন কবরী। তার জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’। নিজের ক্যারিয়ারে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। রাজ্জাকের সাথে জুটি হয়ে ঢাকাই সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন কালজয়ী।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন কবরী। এরপর স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পর্যন্ত একে একে অভিনয় করেছেন ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ এর মত সিনেমায়। যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারো সিনেমায় নিয়মিত হন কবরী। অভিনয় করেছেন শতাধিক সিনেমায়। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এ সম্পর্কিত

আরো পড়ুন

- Advertisement -

সর্বশেষ

মুক্তি প্রতীক্ষিত

  • লিডার আমিই বাংলাদেশ
    লিডার আমিই বাংলাদেশ